বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতীয় রেল ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাবে হাইড্রোজেন ট্রেন (Hydrogen Train)। জলচালিত দেশের প্রথম ট্রেন প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই বড় ঘোষণা দিয়েছে ভারতীয় রেল মন্ত্রক। প্রকল্পের প্রস্তুতি একেবারে শেষ পর্বে। সব ঠিক থাকলে, এ মাসেই ট্রাকে ছুটবে এই ট্রেন। সবচেয়ে মজার বিষয়, আর পাঁচটা রেল গাড়ির মতো এই ট্রেন চলার সময় হবে না কোনও রকম আওয়াজ। শুধু তাই নয়, হাইড্রোজেন চালিত এই ট্রেন হতে চলেছে বিশ্বের দীর্ঘতম ব্রডগেজ হাইড্রোজেন ট্রেনগুলির মধ্যে একটি। ট্রেনটির সাজসজ্জা থেকে শুরু করে প্রত্যেক কোচে যাত্রীদের সুরক্ষার দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে রেল। তবে অন্যান্য সমস্ত বিষয়কে পাশে সরিয়ে রেখে চমকে দেবে এই ট্রেনের ভাড়া।
দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন পরিষেবা কবে থেকে শুরু হচ্ছে?
ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার উদ্বোধনের দিন ঘোষণা করে দিয়েছে রেল। ভাগ্যক্রমে নির্বাচনের আগে সেই ট্রেন পেয়েছে বাংলা। তবে এখানেই শেষ নয়, নতুন বছরে দেশবাসীকে একের পর এক উপহার দিয়ে চলেছে ভারতীয় রেলওয়ে। জল্পনাকে সত্যি করে খুব শীঘ্রই একগুচ্ছ নতুন অমৃত ভারত চালু করতে যাচ্ছে রেল। আর সেসবের মাঝে সকলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন। এই প্রকল্পের কাজ একেবারে শেষ পর্যায়ে বলেই জানিয়েছে রেল মন্ত্রক।
রেলের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করার আগেই শেষ পর্বের প্রস্তুতি চলছে। বেশ কয়েকটি রিপোর্ট বলছে, সব ঠিক থাকলে চলতি মাসের 26 তারিখ ভারতীয় রেলের ট্র্যাকে উঠতে পারে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি। যদিও এই ট্রেনের পরিষেবা কবে থেকে শুরু হচ্ছে তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি রেল। তবে আশা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই সেই অপেক্ষা শেষ হবে।
দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের খুঁটিনাটি তথ্য
রেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের ট্রায়াল পর্ব শেষ হয়েছে। রেল জানিয়েছে, দেশের গর্ব এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে জার্মানি এবং চিনের প্রযুক্তি। এই ট্রেনটির দুটি পাওয়ার কারে রয়েছে 2,400 মেগাওয়াট শক্তি। এর ফলে এই ট্রেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ট্রেনগুলির তালিকায় জায়গা পেয়েছে। রেল সূত্রে যা খবর, আপাতত এই ট্রেনটি হরিয়ানার জিন্দ এবং সেনাপতির মধ্যে ছুটবে। সেই মর্মেই, জিন্দে তৈরি হয়েছে একটি আধুনিক হাইড্রোজেন প্লান্ট। সেখান থেকেই এই ট্রেনে হাইড্রোজেনের যোগান দেওয়া হবে।
ট্রেনটি ট্রায়াল রান সফলভাবে সংঘটিত হওয়ার পর এই ট্রেন প্রাথমিকভাবে 110 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিতে চলবে বলেই খবর পাওয়া গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাজসজ্জার দিক থেকে এই ট্রেনের কোচগুলিতে কৃপণতা করেনি রেল। মেট্রোর মতো এই ট্রেনের প্রতিটি কোচের দুপাশের রয়েছে দুটি করে স্লাইডিং দরজা। থাকছে পাখা, পর্যাপ্ত লাইট এবং এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে, ট্রেন চালু হওয়ার আগে দরজা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে। রেলের সূত্র দাবি করছে, 360 কেজি ওজনের এই হাইড্রোজেন ট্রেন কোনও রকম শব্দ না করেই সর্বোচ্চ 180 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা গতিতে ছুটতে পারবে। মূলত এই ট্রেনের উভয়প্রান্তে পাওয়ার ইঞ্জিন থাকার কারণে ট্রেনটির গতি অনেকটাই মসৃণ হবে বলেই খবর।
অবশ্যই পড়ুন: রোহিত-বিরাটের জন্য টিম ইন্ডিয়ার ড্রেসিংরুমে সমস্যা? মুখ খুললেন অধিনায়ক গিল
ভাড়া কত হবে?
দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে দেশবাসীর। ট্রেনটির গতিবেগ থেকে শুরু করে রুট এমনকি ভেতরের সাজসজ্জা সবকিছুর পাশাপাশি ট্রেনটির ভাড়া কত হতে পারে তা নিয়েও কৌতুহলী প্রত্যেকেই। রেলের তরফে অবশ্য এই ট্রেনের ভাড়া নিয়ে কিছুই ঘোষণা করা হয়নি। তবে বেশ কয়েকটি সূত্র যা বলছে, প্রথমত হাইড্রোজেন অর্থাৎ জল দিয়ে এই ট্রেনটি চালানোর কারণে এতে অন্যান্য ট্রেনগুলির তুলনায় খরচ তুলনামূলক কম। মূলত সে কারণেই যাত্রীদের সুবিধার্থে এই ট্রেনের ভাড়া সর্বনিম্ন 5 টাকা থেকে সর্বোচ্চ 25 টাকা পর্যন্ত রাখা হতে পারে।