সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য বড় খবর। আগামী ২৭ জানুয়ারি, সোমবার দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের (Bank Strike) ডাক দিয়েছে কর্মীরা। সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজের দাবিতেই এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন। আর সেক্ষেত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, একদিনের এই কর্মবিরতির ফলে সারাদেশে ব্যাঙ্ক পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি ATM পরিষেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন ডাকা হল ব্যাঙ্ক ধর্মঘট?
আসলে ব্যাঙ্ক কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি, সপ্তাহে ৫ দিন কাজ করতে হবে এবং ২ দিন অন্তত ছুটি দিতে হবে। এর আগেও ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই দাবিতে দু’দিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। সেই সময় কেন্দ্র সরকার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে। এদিকে প্রায় এক বছর কেটে গেলেও কর্মীদের অভিযোগ, সরকার কোনওরকম পদক্ষেপ নেয়নি আর বিষয়টিকে উপেক্ষিত করে চলেছে। সেই কারণেই ফের ধর্মঘটের পথে হাঁটতে চলেছে তারা।
যদিও প্রযুক্তিগতভাবে ২৭ জানুয়ারি ব্যাঙ্কের কোনও সরকারি ছুটির দিন নয়, কিন্তু ব্যাঙ্কের কর্মীরা বিক্ষোভ ও কর্মবিরতিতে অংশ নেবেন বলে খবর। ফলত শাখা ব্যাঙ্কে কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই দিন ক্যাশ লেনদেন, চেক ক্লিয়ারেন্স বা ব্যাঙ্কের পরিষেবায় বিভিন্ন রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। মোদ্দা কথা, ওই দিন ব্যাঙ্কের পরিষেবা বন্ধ থাকবে বলেই ধরে নেওয়া যায়। তাই খুব জরুরী কাজ থাকলে ২৭ জানুয়ারির আগেই ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কাজ সেরে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আরও পড়ুন: রাজ্যজুড়ে চলা শৈত্যপ্রবাহের জেরে স্কুল ছুটির ঘোষণা সরকারের
উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন এবং অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশন। সংস্থাগুলির দাবি, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির মধ্যে বেতন সংশোধনের সময় ৫ দিন কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সিদ্ধান্ত আজও কার্যকর হয়নি। বর্তমানে আরবিআই, এলআইসি বা অন্যান্য সংস্থাগুলিতে সপ্তাহে ৫ দিন কাজ হয়। কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারি অফিসেও শনিবার ছুটি থাকে। কিন্তু ব্যাঙ্কের কর্মীদের ক্ষেত্রে কেন এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না? এমনকি তাদের দাবি, সপ্তাহে ৫ দিন কাজ হলে পরিষেবা ব্যাহত হবে না। সোম থেকে শুক্রবার অতিরিক্ত ৪০ মিনিট কাজ করতেও তারা রাজি।