বন্যায় ডুবে যায় গ্রাম, কোচিং ছাড়াই WBCS ক্র্যাক করে DSP হলেন হুগলীর প্রদীপ্ত

Success Story Of A Hooghly Man Who becomes dsp of West Bengal police

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সামান্য বৃষ্টি হলেই স্তব্ধ হয়ে যায় জনজীবন। বারবার বানভাসি হয় গোটা এলাকা। হুগলির আরামবাগ মহকুমার অন্তর্গত খানাকুলের নন্দনপুরের এমন চিত্র কমবেশি সকলেরই জানা। সেই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেই এবার বাংলা পেল এক WBCS অফিসার। বন্যাকবলিত নন্দনপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাসিন্দা প্রদীপ্ত বাগ (Success Story)। 2017 সালে WBCS এর সাধারণ মেধা তালিকায় 17 তম স্থান অধিকার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ বা DSP হয়েছেন তিনি। ছেলের এই সাফল্যে চোখের জল আটকে রাখতে পারলেন না বাবা-মা।

চরম প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়েই নিজের স্বপ্নকে বড় করে তুলেছিলেন প্রদীপ্ত বাগ

ভারী বৃষ্টিতেই বছরের বিভিন্ন সময়ে বানভাসি হয় খানাকুলের নন্দনপুর এলাকা। যাঁর কারণে কমবেশি ওই অঞ্চলের প্রত্যেকের বাড়িতেই নৌকার ব্যবস্থা রয়েছে। বন্যা হলে ওই নৌকা চেপেই জল ঠেলে পাড়ি দিতে হয় দূরের গন্তব্যে। বিগত কয়েক দশকে বাংলার এই অঞ্চল থেকে WBCS পরীক্ষায় সফল হওয়া তো দূর, সাধারণ সরকারি চাকরির স্বপ্নই দেখতে পারেননি অনেকে। সেই পর্বে দাঁড়িয়ে, অভাব অনটন এবং চূড়ান্ত প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় 17 তম স্থান অধিকার করেন প্রদীপ্ত বাগ।

প্রত্যন্ত বন্যা কবলিত নন্দনপুরেই জন্ম এবং সেখানেই বেড়ে ওঠা প্রদীপ্তর। ছোট থেকেই বন্যা কী জিনিস আলাদা করে বুঝিয়ে দিতে হয়নি এই মেধাবী ছাত্রকে। বেশ কয়েকবার বন্যার ভয়াবহ রূপ নিয়ে কবিতাও লিখে ফেলেছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে খবর, ছেলেবেলায় মস্তিষ্কের বোধগম্যতা হওয়ার পর থেকেই নিজেকে একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন প্রদীপ্ত। সেই মতোই, নন্দনপুরের স্কুল থেকে প্রাথমিকের পড়াশোনা শেষ করে ওই গ্রামেরই রূপচাঁদ অ্যাকাডেমি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছিলেন প্রদীপ্ত। এরপর আরামবাগের নেতাজি মহাবিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সাইন্সে অনার্স সহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

জানা যায়, 2020 সালে দাঁড়িয়ে অভাব অনটন এমনকি নিজের গ্রামের প্রতিকূলতার মধ্যেও WBCS পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন প্রদীপ্ত। পরিবার সূত্রে খবর, কোনও রকম কোচিং ক্লাস ছাড়াই WBCS পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। এমন সময়ও গেছে, বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে যাওয়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হয়েছিল তাঁদের। তা সত্ত্বেও হাল ছাড়েননি, হুগলির মেধাবী ছাত্র প্রদীপ্ত। শোনা যায়, পড়াশোনার স্বার্থে নৌকা নিয়ে প্রয়োজনীয় নোটস সংগ্রহ করতে হয়েছিল তাঁকে। সেইসব প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন প্রদীপ্ত। আর সেই সূত্রেই, 2023 সালে WBCS পরীক্ষার সাধারণ মেধা তালিকায় 17 তম স্থান অধিকার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসে রাজ্যের মধ্যে নবম র‍্যাংক করে DSP পদের জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।

অবশ্যই পড়ুন: নিপা ভাইরাসের কারণে ভারতে খেলতে আসা নিয়ে সংশয়ে অস্ট্রেলিয়া, বাতিল হবে T20 বিশ্বকাপ?

হুগলির বাসিন্দা প্রদীপ্ত জানিয়েছেন, হাজারো প্রতিকূলতা সত্বেও নিজের লক্ষ্যে স্থির ছিলেন তিনি। শুধুমাত্র নিজের অদম্য ইচ্ছে শক্তি এবং কিছু করে দেখানোর খিদে নিয়েই শেষ পর্যন্ত সফলতা ছুতে পেরেছেন । প্রদীপ্ত জানান, “WBCS পরীক্ষার প্রস্তুতিতে যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয় সেজন্য দিনের পর দিন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন তিনি। সেটাই সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।” হুগলির DSP এও জানান, শুধুমাত্র সেল্ফ স্টাডির উপর ভরসা করেই WBCS এ সফল হয়েছেন তিনি। এদিকে ছেলের সাফল্যে ক্যামেরার সামনেই একেবারে হাউহাউ করে কেঁদে ভাসালেন বাবা মা। রাজ্য পুলিশের DSP হয়েছেন প্রদীপ্ত সে খবরে উচ্ছ্বসিত পরিবারের অন্যান্য সদস্য থেকে শুরু করে পাড়া প্রতিবেশী সকলেই। সূত্রের খবর, প্রাক্তন ছাত্রের এমন সাফল্যে ইতিমধ্যেই প্রদীপ্তকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁর বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে সকলেই।

Leave a Comment