সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বাংলার মানুষের সবিধার্থে ফের এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেলমন্ত্রক। এমনিতেই বেশ কিছু রেল প্রকল্প অনুমোদন করেছে ভারতীয় রেল। এছাড়াও বহু রেলপথের ক্ষেত্রে সার্ভের অনুমতি দিয়েছে। পূর্ব রেল অনুযায়ী, অনুমোদিত সার্ভেগুলি হল রাজনগর ও বক্রেশ্বর ধাম হয়ে ৭৩ কিমি দীর্ঘ সিউড়ি–নালা লাইন, ২৭ কিমি দীর্ঘ আরামবাগ–খানাকুল লাইন, এবং ৭৮ কিমি দীর্ঘ রসুলপুর–গঞ্জালপাড়া লাইন। অপরদিকে যে রেলপথের অনুমোদন হয়েছে সেই দুটি হল বোঁয়াইচণ্ডী-আরামবাগ এবং বোঁয়াইচণ্ডী-খানা (Bowaichandi Rail Project)। রেল মন্ত্রকের এহেন উদ্যোগকে নিয়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে সর্বত্র। এদিকে এই বিষয়ে বড় মন্তব্য করলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
বাংলার আরও দুটি রেলপথের অনুমোদন দিল রেল মন্ত্রক
নিজের ফেসবুক পোস্টে সাংসদ লিখেছেন, ‘বিষ্ণুপুর লোকসভার মানুষের জন্য এক অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুমোদন পেল বোঁয়াইচণ্ডী-আরামবাগ এবং বোঁয়াইচণ্ডী-খানা নতুন রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। এই দুটি রেলপথ বাস্তবায়িত হলে বিষ্ণুপুর লোকসভা এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন আরও গতি পাবে।’
ট্রেনের স্টপেজ বাড়াল রেল!
শুধু তাই নয়, ওন্দা রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন নম্বর ১৩৫০৫/১৩৫০৬ দিঘা – আসানসোল এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ অনুমোদন দিয়েছে রেল মন্ত্রক। সেটা নিয়েও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন বিজেপি সাংসদ। তিনি লিখেছেন, ‘ওন্দা রেলওয়ে স্টেশনে ১৩৫০৫/১৩৫০৬ দিঘা – আসানসোল এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ অনুমোদন এই অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকে করবে আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সময়সাশ্রয়ী। সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও ব্যবসায়ী সকলেই এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন। এই ঐতিহাসিক ও জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্তের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীজি এবং মাননীয় রেলমন্ত্রী শ্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবজি কে বিষ্ণুপুর লোকসভার আপামর জনগণের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। সুশাসন, উন্নয়ন ও জনসেবার অঙ্গীকার এইভাবেই এগিয়ে চলেছে নতুন ভারত।’
বোঁয়াইচণ্ডীর গুরুত্ব
বোঁয়াইচণ্ডী সম্পর্কে বললে, এটি দক্ষিণ পূর্ব রেলের আদ্রা বিভাগের অন্তর্গত বাঁকুড়া-মসাগ্রাম লাইনে অবস্থিত। পূর্ব বর্ধমানের এই অঞ্চলটি মূলত এখানকার বিখ্যাত বসন্ত চন্ডী মন্দির এবং অম্বুবাচী পূজার উৎসবের জন্য পরিচিত।