প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভয়ংকর কাণ্ড পূর্ব বর্ধমানে! সচেতনতার অভাব এবং অনিরাপদ জীবনশৈলীর জেরে বর্ধমান জেলায় থাবা বসালো মারণ রোগ এইচআইভি (HIV Positive In Purba Bardhaman)। জানা গিয়েছে এই ঘটনায় জেলা জুড়ে প্রায় ৯০ জনের শরীরে মিলল ক্ষতিকারক এই ভাইরাস! জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এমন পরিসংখ্যানে চোখ কপালে উঠেছে অনেকেরই। অসুরক্ষিত যৌনতার কারণেই সংক্রমণ বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক। নজরকাড়া বিষয় হল আক্রান্তদের অধিকাংশই নাকি উচ্চশিক্ষিত ও পেশাগত ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তাঁরা প্রত্যেকেই সমকামী।
উদ্বেগজনক চিত্র পূর্ব বর্ধমানে
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, সম্প্রতি বর্ধমানের এক যুবকের দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়েছিলেন। তখনই দেখা যায় তাঁর শরীরে এডস সৃষ্টিকারী ভাইরাস। HIV আক্রান্ত ওই যুবকের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন, তা নিয়ে খোঁজখবর করা হয়। তার পরেই একের পর এক HIV পজিটিভ ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে। বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে HIV আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ তে! যার মধ্যে বর্ধমান শহরেই আক্রান্ত ৩০ জন। এই ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্তে উঠে এসেছে, আক্রান্তরা বেশিরভাগই সমকামী। অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আর তাতেই উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য শিবির।
ক্রমেই বাড়ছে সংক্রমণের হার
পূর্ব বর্ধমানের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম সংবাদমাধ্যমে জানান, ‘‘বার বার সচেতনতামূলক প্রচার সত্ত্বেও অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ থেকে বিরত থাকছেন না। আমরা এইচআইভি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়েছি। শুধু পুরুষ নন, মহিলা এবং তরুণদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়ছে, যা চিন্তার বিষয়।’’ এইডস সংক্রান্ত রোগ নিরাময়ে জেলার প্রোগ্রাম আধিকারিক অখিলেশ কুমার ঘোষ এই প্রসঙ্গে আগেই জানান, জেলায় ১২০০ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে, গ্রামীণ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতালে বিনামূল্যে টেস্টিং কিট পাওয়া যায়। বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আক্রান্তদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তাই সবাইকে নিরাপদে থাকার বার্তা দেন তিনি।
আরও পড়ুন: কোটি টাকা চেয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি WhatsApp এ, বিপাকে ধুরন্ধর স্টার রণবীর সিং
প্রসঙ্গত, ভয় কাটিয়ে অনেকেই বেশ কয়েকবার সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে গিয়েছেন। যা অত্যন্ত ভালো দিক। আর এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাই পূর্ব বর্ধমানে কাজ করছে একাধিক সংগঠনও। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জোর দেওয়া হচ্ছে গোপনীয়তা বজায় রেখে পরীক্ষা, কাউন্সেলিং ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপর। স্বাস্থ্য কর্তারা জানিয়েছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধযোগ্য। নিরাপদ যৌন আচরণ, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।