বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবার বিশেষ পরিকল্পনা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা ভারতীয় সেনার (India-Bangladesh Border)। কয়েকটি সূত্র মারফত খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিভিন্ন জলাভূমি বা নদী পেরিয়ে যাতে ওপার থেকে কোনও বাংলাদেশি দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্যই সাপ এবং কুমিরের মতো প্রাণীকে ব্যবহার করার প্ল্যান করছে BSF। যদিও গোটা বিষয়টি আপাতত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও নির্দেশ মেলেনি। তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, সীমান্ত পথে বন্য প্রাণীদের কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাবে।
অনুপ্রবেশ রুখতে BSF কে সাহায্য করবে সাপ এবং কুমির?
বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে অন্তত 4,096 কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা রয়েছে। যার মধ্যে কম করে 175 কিলোমিটারে মূলত জলাভূমি বা নদী রয়েছে। ফলে এই এলাকাগুলিতে নজরদারি চালানো ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জন্য যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়ে। মূলত সেই কারণেই চোরাচালান বা অবৈধ অনুপ্রবেশ আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স।
সূত্র বলছে, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের জওয়ানদের সীমান্ত লাগোয়া এমন কিছু জলাভূমি বা নদীমাতৃক এলাকা খুঁজতে বলা হয়েছে যেসব জায়গায় সাপ এবং কুমিরের মতো প্রাণীগুলিকে রাখা যায়। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই মনে করছেন, সাপ এবং কুমিরের মতো বন্যপ্রাণীদের দিয়ে সীমান্ত রক্ষার কাজ যথেষ্ট কঠিন হবে। তাছাড়াও প্রাণীগুলির বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তুতন্ত্র তৈরি করা থেকে শুরু করে গোটা প্রক্রিয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে পারে BSF র জন্য। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত নিজেদের পরিকল্পনায় কতটা সফল হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
অবশ্যই পড়ুন: বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আটকাতে বর্ডারে কুমির, সাপ ছাড়ার প্ল্যান BSF-র
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে BSF সীমান্তে চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। মূলত অত্যাধুনিক সব ড্রোন ব্যবহার করে প্রতিমুহূর্তে নজরদারি চালানো হচ্ছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে। কিন্তু তারপরেও ঠেকানো যাচ্ছে না অনুপ্রবেশ। প্রতিবছর একটা বড় সংখ্যার বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এসে ভিড় বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ। তাছাড়াও গত জানুয়ারিতে নদীয়ার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে 9 কোটি টাকার সোনার বিস্কুট উদ্ধার করেছিল BSF।