প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন হাতাতে খেলে উঠেছে বিরোধীরা। চুপ থাকছে না শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে চারিদিকে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় ফের ভিন রাজ্যে খুন হল রাজ্যের আরও এক পরিযায়ী শ্রমিক। জানা গিয়েছে মহারাষ্ট্রের পুনেতে খুন করা হয়েছে পুরুলিয়ার (Purulia) এক পরিযায়ী শ্রমিককে। ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এলাকা জুড়ে।
পুণেতে উদ্ধার পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ
রিপোর্ট মোতাবেক, সুখেন মাহাতো নামে পুরুলিয়ার শ্রমিক ২০২১ সাল থেকে পুনেতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। তাঁর বাড়ি পুরুলিয়ার বরাবাজার থানার তুমড়াশোলের বাঁধডিতে। সে পুণের কোরেগাঁও ভিমার পাশে সনৎবাড়ি এলাকার একটি গাড়ির পার্টস তৈরির কোম্পানিতে তিনি কর্মরত ছিলেন। কিন্তু গতকাল অর্থাৎ বুধবার দুপুরে পুণের শিকারপুর থানার করেগাঁও ভিমা এলাকা থেকে ওই কুড়মি যুবকের রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। এই খবর পরিবারের কাছে পৌঁছতেই মৃতের দাদা তুলসীরাম মাহাতোর অভিযোগ, সুখেনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ মমতার
তুলসীরাম মাহাতো ভাইয়ের মৃত্যুর এই ঘটনায় থানায় হত্যার অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, স্রেফ বাংলা ভাষায় কথা বলাতেই রাজ্যের পিছিয়ে পড়া কুড়মি জনজাতির পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। মহারাষ্ট্র পুলিশও তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। এদিকে এই ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যাকাণ্ডকে “ঘৃণ্য অপরাধ” বলে আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “আমি এই খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত, ক্রুদ্ধ এবং হতবাক। সুখেন মাহাতো, যিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, তার ভাষা, পরিচয় ও শিকড়ের কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এইভাবে বাঙালি বিদ্বেষকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং নিরপরাধ মানুষকে টার্গেট করা হয়।”
আরও পড়ুন: অবশেষে স্বস্তি! বনগাঁকাণ্ডের সমস্ত মামলায় জামিন পেলেন তনয় শাস্ত্রী
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। ওই পরিযায়ী শ্রমিক আমাদের কুড়মি জনজাতির। বিজেপি এভাবে অত্যাচার চালিয়ে কিছুতেই বাংলা দখল করতে পারবে না।” শেষ আপডেট অনুযায়ী বুধবার রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এখনও জারি রয়েছে ঘটনার তদন্ত।