প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বর্তমান বাজারে ক্রমেই বাড়ছে বেকারত্বের সমস্যা। আর তার সঙ্গেই পল্লা দিতে বাড়ছে প্রতারণামূলক কাজ। এমতাবস্থায় শিরোনামে উঠে এল আরও এক প্রতারণামূলক খবর। জানা গিয়েছে, নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তা বলে দাবি করে ইন্ডিয়ান অয়েল সংস্থায় কাজ দেওয়ার নাম করে ৩২ লাখ টাকা হাতিয়েছে এক যুবক। থানায় এই ভয়ংকর অভিযোগ দায়ের হতেই দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি (Patuli) থানার পুলিশ আধিকারিকরা নেমে পড়ে তদন্তে। শেষ পর্যন্ত বহু খোঁজাখুঁজির পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন ওই ব্যক্তি।
৩২ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন প্রতারক
রিপোর্ট মোতাবেক, পাটুলির দুই যুবক ও এক যুবতীকে কেন্দ্রীয় সরকারের পদস্থ কর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরির টোপ দিয়েছিল কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। সরকারি ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা ঠিক কতটা, তা বোঝাতে বেশ কিছু ছবিও দেখিয়েছিল তাঁদের। সেই ছবিগুলিতে, অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গিয়েছিল। আর তাতেই আশ্বস্ত হয়েছিলেন পাটুলির তিন যুবক যুবতী। ইন্ডিয়ান অয়েলে চাকরি পাকা হয়ে যাওয়ার আশায় সেইমতো তাঁরাও সোনার গয়না, বাড়ির দলিল বন্ধক রেখে ৩২ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন ওই অভিযুক্তকে। কিন্তু টাকা হাতে পেতেই উধাও সেই ব্যক্তি। শেষে ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে পাটুলি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
মিলেছে পাঁচটি আধার কার্ড
চাকরি প্রতারণা কাণ্ডের ভিত্তিতে দায়ের করা অভিযোগে ঘটনার তদন্তে নামে পাটুলি থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, লেকটাউন, বাগুইআটি, পাটুলি-সহ বিভিন্ন জায়গায় ঠিকানা রয়েছে কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় নামের ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির। শুধু তাই নয়, প্রত্যেক ঠিকানায় একটি করে তাঁর আধার কার্ডও রয়েছে। সবমিলিয়ে পাঁচটি আধার কার্ডের সন্ধান পান তাঁরা। জানা গিয়েছে, যেখানে যেখানে ওই ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া নেন, সেখানেই একটি করে আধার কার্ড তৈরি করান। দীর্ঘদিন ধরেই গোরু খোঁজা খুঁজছিল পুলিশ। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: SIR নিয়ে ২৬টি কবিতা লিখলেন মমতা, পুস্তক প্রকাশিত হল কলকাতা বইমেলায়
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় এক সময় পাটুলিতেই থাকত। কৃষ্ণেন্দুর নকল আইডি প্রুফও ছিল অনেক। যুবক যুবতীর আস্থা অর্জনের পর ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয়। শেষ অবধি সোনার গয়না ও বাড়ির দলিল বন্ধক রেখে তিনজন বাজার থেকে ৩২ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। এরপর তাঁরা অনলাইনে ২২ লক্ষ টাকা ও নগদে ১০ লক্ষ দেন কৃষ্ণেন্দুকে। টাকা নেওয়ার পরই ফোন সুইচড অফ করে দেয় সে। এর আগে আর কারোর সঙ্গে এমন প্রতারণামূলক কাজ হয়েছে কিনা তাই নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।