সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ শান্ত উপত্যকা, দূরে পাহাড়, সামনে অল্প জলরাশি, ঠিক এরকম দৃশ্য দেখে যদি রোজ সকালে ঘুম ভাঙে তাহলে কেমন হয়! শুনে স্বপ্নের মতো শোনাচ্ছে তো? কিন্তু এটা স্বপ্ন নয়, এটা বাস্তব। আমাদের উত্তরবঙ্গে এমন অনেক জায়গা (North Bengal Offbeat) আছে যেখানে গেলে মনে হবে কোনও বিদেশী জায়গায় চলে গিয়েছেন। যাইহোক, সামনেই গরমের ছুটি (Summer Vacation) পড়ে যাবে। এই সময়ে কয়েকদিনের ছুটি হাতে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এমন এক জায়গা থেকে যেখানে গেলে আর ফিরে আসতে চাইবেন না। আবার খরচও হবে কম, কিন্তু ল্যান্ডস্কেপ, কিছু দৃশ্য দেখতে পাবেন একদম বিদেশের মতো। আজ কথা হবে ডুয়ার্সের (Dooars) তেমনই এক টুকরো ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নিয়ে যেখানে এই ছুটিতে আপনি ঘুরে আসতে পারেন স্বল্প খরচে।
ডুয়ার্সের এই জায়গা যেন ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’
অনেক তো হল দার্জিলিং বা সিকিম, এবার ঘুরতে যাওয়ার লিস্টে রাখতে পারেন ডুয়ার্সের ‘রায়মাটাং’ নামের জায়গাটিকে। এই জায়গায় এলে মনে হবে প্রকৃতি যেন নিজের সব সৌন্দর্য উজাড় করে দিয়েছে। সেই রোজনামচা জীবনে আর ফিরে যেতে মন চাইবে না এই রায়মাটাং-এ এলে। এটি একটি সম্পূর্ণ অফবিট জায়গা। তবে প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে চাইলে এর থেকে চমৎকার গন্তব্য দুটো নেই। নদী, পাহাড়, বনজঙ্গল বেষ্টিত এই সুদৃশ্য জায়গা আপনার মন, প্রাণ চাঙ্গা করে দেবে।
এই রায়মাটাং পৌঁছাতে হলে আপনাকে শুকনা নদী পেরোতে হবে। একদম লাদাখের ফিল দেবে আপনাকে। এখানেই রয়েছে রহস্যে ঘেরা ও গভীর অরণ্য চিলিপাতা। চিলিপাতা জঙ্গলকে বলা হয় জলদাপাড়া এবং বক্সার মধ্যবর্তী ‘এলিফ্যান্ট করিডোর’ অর্থাৎ হাতি চলাচলের জায়গা। এই রায়মাটাং ঘুরতে এসে আপনি যদি লাক্সারি হোটেলে থাকবে বলে ভেবে থাকেন তাহলে ভুল ভাবছেন। এখানে থাকার জন্য রয়েছে কিছু হোমস্টে যা আপনাকে এক আলাদাই অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। রায়মাটাং ঘুরতে এসে আপনি জঙ্গল ট্রেকিং করে পৌঁছে যেতে পারেন পাহাড়ি ভিউ পয়েন্টে, যেখান থেকে ভুটান পাহাড়ের সৌন্দর্য পরিষ্কার দেখা যায়। ভাগ্য ভালো থাকলে হাতি, বাইসন এবং বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ দেখতে পাবেন।
কীভাবে যাবেন রায়মাটাং?
এবার জেনে নেওয়া যাক কীভাবে আপনি সহজেই ডুয়ার্সের এত সুন্দর একটি জায়গাতে পৌঁছাবেন। শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে কালচিনি হয়ে রাইমাটং যাওয়া যায়। কাল চিনি থেকে নদী পার হয়ে গ্রামে প্রবেশ করতে হয়। সাময়িকভাবে শুকনো খটখটে নদী মনে হবে। কিন্তু বর্ষাকালে এই নদী আবার ভয়ংকর রূপ ধারন করে। এই জায়গায় আসার আদর্শ সময় হল বর্ষাকালে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে এলেও কোনও ক্ষতি নেই।