বাংলার থেকে এগিয়ে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা! রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ

West Bengal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ ব্যস্ততা শুরু হয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে একের পর এক পরিকল্পনা করে চলেছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। কর্মসূচির যেন প্রতিযোগিতা বেড়েছে জেলায় জেলায়। এমতাবস্থায় প্রকাশিত হল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির রিপোর্ট। আর তাতেই মাথায় হাত পড়ল বিশেষজ্ঞদের। জানা গিয়েছে, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশার তুলনায় পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ।

প্রকাশ্যে কেন্দ্রের আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্ট

রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সংসদে প্রকাশিত হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক সমীক্ষা (২০২৫-২৬) রিপোর্ট। সেখানে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন অর্থাৎ NSDP ৯.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.৩২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কিন্তু বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ। জাতীয় স্তরে অন্যান্য বড় শিল্পোন্নত রাজ্য যেমন তামিলনাড়ু গতবারের তুলনায় ১৫.৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরপ্রদেশে NSDP বৃদ্ধি পেয়েছে ১২.৬৪ শতাংশ এবং কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ যথাক্রমে ১২.৭৯ এবং ১২.২৮ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সেই নিরিখে পিছিয়ে বাংলা।

পাঞ্জাব ও দিল্লির চেয়ে এগিয়ে বাংলা

কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের পর বিহারের NSDP বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩.০৭ শতাংশ, ওড়িশায় ১৩.০৪ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ১০.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে পূর্ব ভারতের তিন পড়শি রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তবে উত্তর ভারতের কিছু রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। যার মধ্যে অন্যতম হল পঞ্জাব এবং দিল্লি। তাদের NSDP যথাক্রমে ৯.১২ শতাংশ ও ৯.২৮ শতাংশ। এর আগে অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে রাজ্যের NSDP ছিল ১৪.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: আজই বাংলায় অমিত শাহ, ২৬-এর রণকৌশল চূড়ান্ত করতে কোথায় কোথায় করবেন বৈঠক?

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ সালে করোনা অতিমারির পরবর্তী পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের এনএসডিপি বৃদ্ধির হার ১৭.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০৪-২৫ অর্থবর্ষে সেটি মাত্র ৯.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও সেটিকে ইতিবাচক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কিন্তু চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রতিবেশী রাজ্যগুলি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী রাজ্যগুলির প্রতি অর্থবর্ষে এই দ্রুত উত্থান পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত মমতা সরকারের তরফে এই রিপোর্ট প্রসঙ্গে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment