বাংলার মতো পরিকল্পিত হিংসা আর কোনও রাজ্যে হয়নি! মমতাকে কড়া জবাব কমিশনের

SIR in Bengal

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR in Bengal) ঘিরে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের সংঘাত ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। আর এই প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কবি জয় গোস্বামী দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে হলফনামা জমা দিল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের স্পষ্ট দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কর্মীদের উপর পরিকল্পিত হিংসা আর ভীতি প্রদর্শনের যে ধারাবাহিকতা দেখা দিয়েছে, তা দেশের অন্য কোনও রাজ্যে ঘটেনি।

এদিন নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টকে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় বুথ লেভেল অফিসারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সেই কারণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি সম্পূর্ন যুক্তিসঙ্গতই। এমনকি হলফনামায় বলা হয়েছে, ভোটার গণনা ফর্ম সংগ্রহের পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গে বাধা, হুমকি এবং হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়। আর বহু ক্ষেত্রে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও পুলিশ গাফিলতি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এফআইআর দায়ের করতেও দেরি

কমিশনের দাবি, জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ না হলে বহু অভিযোগে এফআইআর নথিভুক্ত হয়নি। এমনকি মামলা দায়ের করা হলেও গ্রেফতারে দেরি করা হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সভার বাইরে থেকেছে। এর পাশাপাশি নির্বাচন আধিকারিকদের লিখিত রিপোর্ট ও তদন্ত সত্ত্বেও রাজ্য প্রশাসন প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। আর অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং ২৮ ঘণ্টা দফতর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি কমিশনের বক্তব্য, এত গুরতর ঘটানোর পরও কলকাতা পুলিশ নিরাপত্তার ত্রুটি মানতে অস্বীকার করে, যা প্রাতিষ্ঠানিক ত্রুটির উদাহরণ।

সবথেকে বড় ব্যাপার, হুমকির মাত্রা পর্যবেক্ষণ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে “Y” ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে, যা গোটা দেশে নজিরবিহীন বলেই জানিয়েছে কমিশন। পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টে দাবি, এক দল বিক্ষোভকারী ‘বিজেপি কা দালাল’ স্লোগান দিয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর তাদের ঝাঁটা নিয়েও তাড়া করা হয়। এমনকি একদল পর্যবেক্ষকদের জন্য কেন্দ্র বাহিনীর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের আশা পূরণ করল না RBI, রেপো রেট নিয়ে খারাপ খবর

মুখ্যমন্ত্রীর বড়সড় দাবি

হলফনামায় শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এসআইএর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ দেওয়া মানেই ‘আগুন নিয়ে খেলা’ এরকম মন্তব্য করে নির্বাচনকারীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি কিছু সরকারি কর্মী নির্বাচন কমিশনের পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। কমিশন অভিযোগ করছে, মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় দেওয়া বক্তব্য উস্কানিমূলক, যা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, একই এসআইআর দেশের অন্যান্য রাজ্যেও কার্যকর হয়েছে। তবে কোথাও পশ্চিমবঙ্গের মতো বাধা বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা দেখা যায়নি।

Leave a Comment