বাচ্চার ভুলে মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে রং! ক্ষোভে দিল্লির উত্তম নগরে পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দিল্লির (Delhi) উত্তমনগর এলাকায় হোলির (Holi Festival) দিন শুরু হওয়া সামান্য বিবাদ শেষ পর্যন্ত তরুণ কুমার নামের (Tarun Kumar) এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় পরিণত হয়। ২৬ বছর বয়সী তরুণ কুমারের হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় রয়েছে। তদন্ত নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে ৮ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং এক নাবালককেও আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার দিল্লির উত্তমনগর এলাকার জেজে কলোনিতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, একটি হোলির বেলুন ঘিরে শুরু হয় বচসা। আর তা ধীরে ধীরে মারাত্মক সংঘর্ষে রূপ নেয়।

কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়?

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী খবর, এক হিন্দু পরিবারের ১১ বছর বয়সী একটি মেয়ে বাড়ির ছাদ থেকে হোলি খেলছিল। আর সেই সময় ছোড়া একটি জল ভর্তি বেলুন নীচ দিয়ে যাওয়া এক মুসলিম মহিলার গায়ে লাগে। মেয়েটির পরিবারের দাবি, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ক্ষমা চেয়েছিল। তবে এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হয় এবং তা খুব দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ ওঠে, এরপর কয়েকজন মিলে ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণ কুমারকে ঘিরে ধরে ক্রিকেট ব্যাট, লাঠি এবং পাথর দিয়েই মারধর শুরু করে। গুরুতর জখম অবস্থায় এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে তাঁর মৃত্যুর পর শুক্রবার থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এক হিন্দু রাজনৈতিক সংগঠনের সমর্থকেরাও বিক্ষোভে নামে। এমনকি বিক্ষোভের সময় একটি গাড়ি এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি কয়েকটি গাড়ির কাঁচও ভাঙচুর করা হয়। উত্তমনগর মেট্রো স্টেশন, স্থানীয় থানা এবং কলোনি সংলগ্ন এলাকায় টানা দুই দিন ধরে বিক্ষোভ চলতে থাকে। আর বিক্ষোভকারীরা রাস্তা অবরোধ করে এলাকার যানবাহনও বন্ধ করে দেয়। উত্তেজনার জেরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেখানে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে টাকা? দিন ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

বুলডোজার অভিযানের দাবি ওই পরিবারের

তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তোলা হয়েছে। তরুণের কাকা রমেশ যিনি নিজেই এই ঘটনায় আহত হয়ে তাঁর আটটি সেলাই পড়েছে, তিনি জানিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান চালানো উচিত। এমনকি পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে তাদের এর আগেও একাধিকবার বিবাদ হয়েছে এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে যে, দুই পরিবারই রাজস্থানের বাসিন্দা। আর বহু বছর ধরেই একে অপরকে চেনেন। পুলিশের দাবি, এই ঘটনা সম্পূর্ণ সম্প্রদায়িক নয়, বরং দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা ফেলা, জল ব্যবহার বা পার্কিং নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেখান থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

Leave a Comment