বাজেটকে ‘মিশনলেস-ভিশনলেস-বেসলেস’ তকমা অভিষেকের

Abhishek Banerjee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রবিবার সংসদে পেশ হয়েছে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬। ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গের জন্য যে এই বাজেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে বাজেট ঘোষণার পরপরই শাসক দলের নেতা নেতৃত্বরা একের পর এক কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন। এবার ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) অভিযোগ করলেন, এই বাজেটে বাংলার জন্য কিছুই নেই। বাজেটকে কটাক্ষ করে তিনি একে ‘মিশনলেস-ভিশনলেস-বেসলেস’ বলেই আখ্যা দিলেন।

অভিষেকের বড়সড় মন্তব্য

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৮৫ মিনিট ধরে বাজেটের বক্তৃতা চলল। তবে এতে বাংলার জন্য কিছুই নেই। শুধু ভাট বকে সময় কাটানো হয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্র সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করেছে। বাঙালি অস্মিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার ১০ কোটি মানুষের প্রয়োজন এবং দাবিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাজেটে ঘোষিত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, নিমহ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হল। তবে তা অসম আর ঝাড়খন্ডে এই দুটি রাজ্যে। বাংলার মানুষের যদি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরকে অন্য রাজ্যে যেতে হবে। বাংলায় কিছুই করা হবে না, এটাই কেন্দ্রের মনোভাব। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার মানুষকে বাংলাদেশী চোখে দেখেন বলেই রাজ্যের কোনও উন্নয়ন করেননি।

তৃণমূল সাংসদের আরও দাবি, এই বাজেটে বাংলার কৃষক থেকে শুরু করে মৎস্যজীবী, যুব সমাজ কারোর জন্য কোনও ঘোষণা নেই। চাকরির কোনও রোডম্যাপই নেই। কৃষকদের আর্থিক জীবন কীভাবে উন্নতি হবে, সেই সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। স্কিল ইন্ডিয়া আর এআই নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রচারের প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি। অভিষেকের মতে, অর্থমন্ত্রী চূড়ান্ত হতাশার জায়গা থেকেই হয়তো এই বাজেট পেশ করেছেন। এতে শুধুমাত্র বাংলা নয়, বরং গোটা দেশের নিম্মবিত্ত শ্রেণীর কোনও মানুষ উপকৃত হবে না।

আরও পড়ুন: কিস্তিতে DA মেটাবে রাজ্য সরকার? সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে উঠল নয়া দাবি

বিজেপির পাল্টা জবাব

তবে শাসক দলের নেতা নেতৃত্বদের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেছেন, এটা ভাতার বাজেট নয়, সাময়িক বা ভোটের বাজেটও নয়। এটা সম্পূর্ণ উন্নয়নমুখী বাজেট। যারা বাংলাকে ভারত থেকে আলাদা করে দেখতে চান, তারা এই বাজেটে কোনওভাবে খুশি হবেন না। বাংলার ১০ কোটি মানুষ দেশের অন্যান্য নাগরিকদের সঙ্গে একই রকম সুবিধা পান। রাজ্যে যদি ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ে ওঠে, তাহলে আর্থিক সমস্যার সমাধান হবে। এখন দেখার এই বাজেট রাজ্যের অর্থনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।

1 thought on “বাজেটকে ‘মিশনলেস-ভিশনলেস-বেসলেস’ তকমা অভিষেকের”

Leave a Comment