সহেলি মিত্র, কলকাতা: যেমন কথা তেমন কাজ। রাজ্য বাজেটে বেড়েছে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর (Lakshmir Bhandar) টাকা। কিন্তু আবেদনকারী থেকে শুরু করে উপভোক্তারা যে এত তাড়াতাড়ি বাড়তি টাকা পেয়ে যাবেন সেটা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। হ্যাঁ ঠিকই আন্দাজ করেছেন। নবান্নের (Nabanna) উদ্যোগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা, তাও বাড়তি ৫০০ টাকা সহ। গত শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েচ্ছে প্রক্রিয়া। ফলে বাংলার মা বোনেদের মধ্যে এখন খুশির হাওয়া বইছে।
নবান্নের উদ্যোগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বাড়তি ৫০০ টাকা!
সরকারের দাবি, এই প্রকল্প থেকে ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই টাকা প্রতি মাসে সরাসরি মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। বর্তমানে যত সময় এগোচ্ছে ততই ক্রমশ মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। গৃহস্থালির খরচ, শিশুদের শিক্ষা, ওষুধ এবং দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা কঠিন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি মহিলাদের একটি নির্দিষ্ট মাসিক পরিমাণ প্রদান করে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। এই কারণেই এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়। এখন এই প্রকল্পের টাকা অবধি বৃদ্ধি করেছে সরকার।
সরকারের ঘোষিত সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পর, এখন মহিলাদের জন্য উপলব্ধ পরিমাণ হল সাধারণ শ্রেণীর মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে ১,৫০০ এবং তপশিলি জাতি/উপজাতি মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে ১,৭০০। আগে, এই পরিমাণ ছিল সাধারণ শ্রেণীর মহিলাদের জন্য ১,০০০ এবং তপশিলি জাতি/উপজাতি মহিলাদের জন্য ১,২০০। নতুন বৃদ্ধি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকে সকলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নতুন বৃদ্ধির টাকা ঢুকতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গে ফের নামল পারদ, ৫ জেলায় কাঁপুনি শীতের, আজকের আবহাওয়া
এই প্রকল্পের সুবিধা কারা পেতে পারে?
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে, মহিলাদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তাদের অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাদের নাম স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে রেজিস্টার হতে হবে। মহিলা বা তার পরিবারের কোনও সদস্যকে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মচারী হলে হবে না, সরকারি পেনশন পেলে হবে না, সরকারি উদ্যোগ, পৌরসভা, পঞ্চায়েত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত চাকরি করলে আবেদন করা যাবে না। যদি এই সমস্ত শর্ত পূরণ হয়, তাহলে মহিলা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।