সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আসন্ন বাজেটে কি লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে (Lakshmir Bhandar Scheme) অনুদান বাড়াবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? এখন সকলের মুখে মুখে এই একটাই প্রশ্ন। চলতি বছরেই রয়েছে রাজ্য ভোট। এদিকে তার আগেই রয়েছে রাজ্য বাজেট যা আগামী ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও এবারে রাজ্যের আসন্ন বাজেট পূর্ণাঙ্গ নয়। তা ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বা এই আর্থিক বছরের শেষ তিন মাসের জন্য। মে মাসে নতুন সরকার গঠনের পরে হবে আগামী বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট। মনে করা হচ্ছে, বিশিষ্ট মহলের মতে, ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেটে কী কী ঘোষণা হয় সেটা দেখার পরেই সরকার কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’র টাকা বাড়াবে সরকার?
কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি, বিভিন্ন রাজ্য সরকারও মহিলাদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে, সরকার মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সুবিধা প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার ২০২১ সালে মহিলাদের জন্য একটি প্রকল্প চালু করে। লক্ষ্মীর ভান্ডার, এই সরকারি প্রকল্পটি দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ ট্রান্সফার করে। সরকার প্রতি মাসে সাধারণ শ্রেণীর মহিলাদের প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা দেয়। তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা প্রতি মাসে ১,২০০ টাকা পান, এর অর্থ হল তারা প্রতি বছর ১৪,৪০০ টাকা পান। যাইহোক, এখন এই টাকার পরিমাণ আগামী দিনে সরকার বাড়াবে কিনা তা জানা যাবে বাজেট পেশ হওয়ার পর।
আরও পড়ুনঃ অনেকটাই বাড়তে পারে রান্নার গ্যাসের দাম!
রাজ্যের নজরে কেন্দ্রীয় বাজেট
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নড়বড়ে। তাই কেন্দ্রীয় বাজেট দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ঘোষণা হতে পারে। এক হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে এখন প্রায় ২.২১ কোটি উপভোক্তাকে এই টাকা দিতে রাজ্যকে বছরে খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের বরাদ্দ বাড়ানো হলে, রাজ্যের কোষাগারে বিপুল চাপ পড়বে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে এখন অনেক ধারও নাকি রয়েছে সরকারের বিভিন্ন জায়গা থেকে। এহেন পরিস্থিতিতে যদি সরকার প্রকল্পের টাকা বৃদ্ধি করে তাহলে তো একে রাজস্বে আরও টান পড়বে সঙ্গে ধার শোধ করার সময়সীমাও আর বাড়বে।
আরও পড়ুনঃ ভারতের সবথেকে ঋণগ্রস্ত রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ, মাথায় কত বোঝা? প্রকাশ্যে RBI-র রিপোর্ট
প্রশাসন সূত্রে খবর, নানা কারণ বিবেচনা করে হয়তো কেন্দ্রের বাজেট এবং ভোটে তার প্রভাব আগেভাগে বুঝে নিতে চাইবে নবান্ন। এমনিতেই ডিএ মামলা, চাকরি, রেশন, শিক্ষা দুর্নীতি-সহ একাধিক ঘটনায় ভোটারদের একাংশ বিরক্ত। এহেন পরিস্থিতিতে সরকার পুনরায় আসবে কিনা সেই বিষয়ে একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এদিকে সরকার যদি এসেও যায় তাহলে তা দীর্ঘ হওয়ার বিষয়েও সন্দেহপ্রকাশ করতে শুরু করেছেন অনেকে। এরকম নানা বিষয় ঘিরে রাজ্য রাজনীতিক মহল উত্তাল হয়ে রয়েছে। যদিও শেষমেষ কী হয় সেদিকে নজর থাকবে সকলের।