প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবারেও পিছিয়ে বাংলা! আর্থিক স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে দেশের ১৮টি বড় রাজ্যের মধ্যে শেষ সারিতে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) নাম। সঙ্গে রয়েছে কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পঞ্জাব। রিপোর্ট দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের। তবে কি রাজকোষের দুরাবস্থা অনুদানের কারণেই হচ্ছে? বড় তথ্য ফাঁস নীতি আয়োগ (Niti Aayog)।
শেষের দিক থেকে তৃতীয় স্থান বাংলার
দেশের বড় রাজ্যগুলির মধ্যে কার রাজকোষের অবস্থা কেমন, তা নিয়ে নীতি আয়োগ ২০২৬-এর দ্বিতীয় বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করা হল আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার। আর সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের। রাজকোষের স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে মোট ১৮টি রাজ্যকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল রাজ্যগুলির মধ্যে একবারে শেষে রয়েছে কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পঞ্জাব। অর্থাৎ শেষের দিক থেকে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলা। সেক্ষেত্রে নীতি আয়োগের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে অবিলম্বে পরিকাঠামো তৈরি-সহ মূলধনী খাতে খরচে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কর বাবদ আয় এবং কর ছাড়া অন্যান্য আয়— দুই ক্ষেত্রেই জোর দিতে হবে।
ঋণের বোঝা কমছে না রাজ্যের
গত বছরও নীতি আয়োগের রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গ শেষ সারিতেই ছিল। প্রথম শ্রেণিতে ছিল ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, ঝাড়খণ্ড ও গুজরাত। চতুর্থ বা সব থেকে খারাপদের শ্রেণিতে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, পঞ্জাব। তবে এবার একধাপ এগিয়েছে। নীতি আয়োগ জানিয়েছে, উন্নয়ন খাতে খরচ ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গ সামান্য এগিয়ে এসেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিষেবা ক্ষেত্রে মূলধনী খাতে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ আর্থিক পরিকাঠামো ও সামাজিক পরিকাঠামোতে প্রশাসন যে জোর দিচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে। এছাড়াও রাজ্যের নিজস্ব দু’বছরে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ঋণের বোঝা এবং পুরনো ঋণে সুদ মেটাতে গিয়ে রাজস্ব আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ খরচ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে নজর দিতে হবে।
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!
এছাড়াও সামগ্রিক ভাবে নীতি আয়োগের আর্থিক স্বাস্থ্যের রিপোর্ট বলছে, গতবারের মত এবারেও রাজকোষ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ওড়িশা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়াও প্রথম পাঁচে রয়েছে গোয়া, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাত। অন্যদিকে হরিয়ানা এক বছরে প্রভূত উন্নতি করেছে। পাশাপাশি বিহার, কর্নাটক, তেলঙ্গানা সামান্য উন্নতি করেছে। কিন্তু পিছনের শাড়ি গুলিতে রাজ্যগুলির উন্নতি খুবই ধীরগতিতে হচ্ছে। নীতি আয়োগের কর্তাদের মতে, আর্থিক অনুদান পাইয়ে দেওয়ার বদলে রাজ্যগুলিকে সঠিক পথে চালিত করা জরুরি। আর্থিক শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে বা আয় বুঝে ব্যয় করতে হবে।