প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের আবহে যখন উত্তপ্ত হাওয়া রাজ্য রাজনীতিতে, সেই সময় বিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের একের পর এক মৃত্যুকে ঘিরে শোরগোল শুরু হয়েছে। কিছুদিন আগে ঝাড়খণ্ডে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। রং লেগেছিল রাজনীতির, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে পড়েছিল যে সাংবাদিকদেরও নিগ্রহের শিকার হয়ে হয়েছিল, আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker) মৃত্যুর ঘটনা শিরোনামে উঠে এল। মুম্বইয়ের রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হল রক্তাক্ত দেহ।
মুম্বই থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ শ্রমিক
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, গত সোমবার রাতে মুম্বইয়ের রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার হয় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার বালতি মাঝের পাড়ার ২৪ বছরের বাসিন্দা আলফাজ মণ্ডল। রক্ষাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে মুম্বই মেট্রোর কাজে এক ঠিকাদারের অধীনে কাজ করছিলেন আলফাজ। থাকতেন সেখানকার সোমবর্গ এলাকায়। কথা ছিল এই সপ্তাহে বাড়ি ফিরবেন তিনি, তাই সোমবার রাতে কাজ শেষ করে ট্রেনেও চড়েছিলেন। কিন্তু ওইদিনে আলফাজ হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়।
ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা
আলফাজের নিখোঁজের মাঝেই মঙ্গলবার রাতে টহল দিতে বেরিয়েছিলেন মুম্বই পুলিশ। তখনই রেললাইনের ধার থেকে একটি ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরে তদন্ত করে জন্য যায় এই আসলে আলফাজ। পরেরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুসংবাদ পাঠানো হয় পরিবারের সদস্যদের। আজই পরিযায়ী শ্রমিকের নিথর দেহ চলে আসে গ্রামে। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। কিন্তু এই মৃত্যুকে সম্পূর্ণ খুন বলে দাবি করছেন পরিবার। যদিও মুম্বই পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ঘটনাকে ‘ট্রেন দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নবান্নের আপত্তি মানলই না কমিশন, জারি নির্দেশ
আলফাজের এই আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে যে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট উঠে এসেছে তা একদমই মানতে চাইছে না পরিবার এবং স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, একজন সুস্থ যুবক কাজ থেকে ফেরার পথে এভাবে দুর্ঘটনায় কীভাবেই বা প্রাণ হারাবেন? তাই এটি দুর্ঘটনা বলে কোনওভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। এর পেছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে বলে মনে করছেন তাঁরা। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।