সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার দরিদ্র ও অভাবীদের জন্য অসংখ্য কল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল খাদ্য সরবরাহ বিভাগ, যা যোগ্য ব্যক্তিদের সাশ্রয়ী মূল্যে রেশন সরবরাহ করে। তবে, এই প্রকল্পের অনিয়ম প্রায়শই প্রকাশ্যে আসে। রাজ্যের কাছে রিপোর্ট রয়েছে যে বহু অযোগ্য মানুষ রেশন তুলছেন। এমনকি বহু এমন রেশন কার্ড রয়েছে যেগুলি সক্রিয় রয়েছে অথচ সেগুলির মালিক আর ইহজগতে নেই। এহেন পরিস্থিতিতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার সকলের বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেশন কার্ড যাচাই (Ration Card Verification) করবে খাদ্য দফতর বলে খবর।
শতায়ু রেশন গ্রাহকদের অস্তিত্ব নিয়ে কড়া অবস্থান নিল রাজ্য
জানা গিয়েছে, শতায়ু রেশন কার্ডধারীদের বাড়িতে প্রাথমিকভাবে যাবেন রাজ্য খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা। সরকারের সম্প্রতি তদন্তে উঠে এসেছে যে সমাজের বহু উঁচু তলার মানুষ, ব্যবসায়ী, বৃহৎ করদাতা, জমির মালিক এবং এমনকি মৃত ব্যক্তি সহ অনেক অযোগ্য ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে রেশন সংগ্রহ করে সরকারের ক্ষতি করেছেন। এই অবস্থায় প্রশাসন এই সকল অযোগ্য সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে এবং আগামী দিনেও করবে। জানা গিয়েছে, পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখন চলছে এবং তাদের রেশন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ আগামী সপ্তাহেই DA বৃদ্ধির ঘোষণা করতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, কতটা?
বাড়ি বাড়ি যাবেন আধিকারিকরা
বিশেষ করে শতায়ু গ্রাহকের নাম নথিভুক্ত থাকলেও এখন অনেকে আর বেঁচে নেই বলে খাদ্য দফতরের অনুমান। অথচ তাঁদের রেশন কার্ড এখনও সক্রিয়। বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবারের একজন সদস্য আধার বায়োমেট্রিক যাচাই করে সবার বরাদ্দ খাদ্য তুলে নিতে পারেন। ফলে কোনও শতায়ু গ্রাহক আর বেঁচে না থাকলেও তাঁর অংশের খাদ্য তোলা হচ্ছে, এই সম্ভাবনাকেই গুরুত্ব সহকারে এখন দেখা হচ্ছে বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারিতে কতদিন ব্যাঙ্ক ছুটি? দেখুন RBI-র তালিকা
বিভিন্ন জেলা খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে সরাসরি যাচাই করে রিপোর্ট জমা দিতে। এর আগেও এই নির্দেশ দেওয়া হলেও কাজ খুব একটা এগোয়নি বলে পর্যালোচনায় উল্লেখ রয়েছে। এবার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও রেশন গ্রাহকের মৃত্যু হলে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যুর সময় রেশন কার্ড জমা দেওয়ার কথা। পুরসভা ও পঞ্চায়েত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা। তাই মৃত গ্রাহকের বরাদ্দ বন্ধ করতেই এই বিশেষ অভিযান।