প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এই মুহুর্তে বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে বঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে। ভোট প্রচারে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তাই নিয়ে দিকে দিকে চলছে জনসভা। শুধু তাই নয়, নির্বাচনকে সামনে রেখেই জেলায় জেলায় রণসংকল্প সভা শুরু করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। গতকালও বারাসতে ছিল সেই সভা। কিন্তু সভার মাঝেই ঘটল বিপদ। অভিষেকের কনভয় দেখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলার অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আর তাতেই দুই ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে সভা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এলাকা জুড়ে ছিল নিরাপত্তা। কিন্তু সভার দিন বারাসতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে আক্রান্ত হতে হয় দুই ব্যক্তিকে। অভিযোগ উঠেছিল, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অভিযুক্ত ওই দুই ব্যক্তি তৃণমূলের মিছিল লক্ষ্য করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলছিলেন। আর তা শুনেই শাসকদলের মহিলা কর্মীরা তেড়ে আসেন দু’জনের দিকে। রীতিমতো কলার ধরে চড়, থাপ্পড়ের পাশাপাশি জুতো খুলেও দু’জনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি শেষে জোর করেই ভরা রাস্তায় ‘জয় বাংলা’ বলতে বাধ্য করেন আক্রান্ত ব্যক্তিকে। উত্তেজনা ছড়ায় বারাসত চাঁপাডালি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায়।
মারধরের অভিযোগ মহিলা তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে
তৃণমূলের মহিলা কর্মীদের দাবি, “পরিকল্পিতভাবে ওই দুই ব্যক্তি জয় শ্রীরাম স্লোগান দেন মিছিল লক্ষ্য করে। এটা অভব্যতা ছাড়া কিছু নয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের অসভ্যতা বরদাস্ত করা হবে না।” এদিকে মহিলা তৃণমূল কর্মীদের রণংদেহী মনোভাব দেখে স্থানীয় দোকানদার, পথচলতি মানুষজনও এতটাই ভয় পেয়ে যায় যে এগিয়ে এসে আক্রান্তদের রক্ষা করার সাহস দেখাতে পারেননি তারা। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে, তাঁরা যদি ‘জয় শ্রীরাম’ বলেও থাকেন সেক্ষেত্রে কেনই বা প্রকাশ্যে রাস্তায় মারধর করা হবে। বিজেপি-র দাবি, তৃণমূলের আমলে রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভোটবাক্সে এর প্রভাব পড়বে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জেলাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষকদের ইন্টারভিউর দিনক্ষণ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি পর্ষদের
কী বলছেন রথীন ঘোষ?
খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে চাঁপাডালি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঝামেলার ঘটনা প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আপনাদের কাছ থেকেই জানতে পারলাম । আমি তো নিজের চোখে দেখিনি।এটা আমাদের দলের সংস্কৃতি নয়। হিংসায় আমরা বিশ্বাসী নই। যদি এই রকম ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে ঠিক হয়নি।” অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস মিত্র বলেন, “জয় শ্রীরাম ধ্বনি ওদের দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তো সহ্য করতে পারেন না। উনি গাড়ি থেকে নেমে ব্যারাকপুরে যে কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন, তা আজও ভোলেননি বাংলার মানুষ। তাই, এই ঘটনায় আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই!”