বালুরঘাট পুরসভায় কোষাগারে টানাটানি! বেতন, পেনশন পাবেনা ১৩০০ কর্মী?

Balurghat Municipality

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বালুরঘাট পুরসভায় (Balurghat Municipality) চেয়ারম্যান পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অবশেষে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে বালুরঘাট পুরসভায় নতুন চেয়ারম্যান হন সুরজিৎ সাহা। তিনি আসতেই অনেকেই ভেবেছিল যে স্বাভাবিক ছন্দে কাজ ফিরবে, কিন্তু শেমুহূর্তে হল গণ্ডগোল। কোষাগারে অত্যন্ত কম টাকা থাকায় এবার পুরসভার কর্মীদের বেতনে বড় কোপ পড়ল। যার জেরে ব্যাপক চিন্তায় পড়ল চেয়ারম্যান।

পুরসভার কোষাগারে টানাটানি

এই সময়ের রিপোর্ট মোতাবেক, নতুন মাস পড়তেই মাত্র আট থেকে দশ দিনের মাথায় পুরকর্মীদের বেতন ও পেনশন দিয়ে থাকে বালুরঘাট পুরসভা। কিন্তু এবার নতুন বছরের প্রথম মাসের বেতন দিতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহাকে। বর্তমানে বালুরঘাট পুরসভায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ১৩০০-র বেশি কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১৭০ জন পেনশনার্স রয়েছেন। সরকারি বিভিন্ন ফান্ডের পাশাপাশি পুরসভার নিজস্ব ফান্ড থেকে ৭০ লক্ষ টাকা বেতন এবং ২০ লক্ষ টাকা পেনশন বাবদ দেওয়া হয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৯০ লক্ষ টাকা। কিন্তু পুরসভার কোষাগারে পড়ে রয়েছে মাত্র সাড়ে ১৭ লক্ষ টাকা। এই অবস্থায় কীভাবে বেতন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে তা নিয়ে বেশ চিন্তিত সকলে।

কী বলছেন চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা?

চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, “২০২২-এ আমাদের বোর্ড যখন ক্ষমতায় আসে তখন পুরসভায় ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা ছিল। কিন্তু ২০২৫ এর ৩১ ডিসেম্বর সেটা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা। হাতে কম টাকা থাকায় পুরসভার কর্মীদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা এই সমস্যা সমাধানের সব রকম চেষ্টা করে চলেছি। আশা করছি ১০ তারিখের মধ্যেই সকলকে বেতন ও পেনশনের টাকা পরিশোধ করতে পারব।” এই প্রসঙ্গে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, “যখন টাকা ছিল তখনও তৃণমূল ছিল। যখন টাকা নেই তখনও তৃণমূল রয়েছে। তাহলে মানুষে ভালোই বুঝতে পারছে, টাকা কে নয়ছয় করেছে?”

আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তে এই কারণে সুপ্রিম কোর্টে পিছোল আইপ্যাক মামলা, পরবর্তী শুনানি কবে?

চলতি মাসে বালুরঘাট পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে রাশ ধরেছিলেন সুরজিৎ সাহা ওরফে বাবু। উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর পূর্বতন চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের বিরুদ্ধে তৃণমূলের ১৬ জন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন। সেই বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন অশোক মিত্র। এরপর সেই জায়গায় বসানো হয় সুরজিৎ সাহাকে। কিন্তু নয়া পদ মিলতেই নতুন ঝামেলার মুখে শেষে পড়তে হল সুরজিৎ সাহাকে। যদিও পুরসভার নিজস্ব ফান্ডে টাকা কম থাকার পিছনে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের দিকে আঙুল তুলেছেন পুরসভার একাংশ কাউন্সিলার ও বিরোধীরা।

Leave a Comment