সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ একদিকে যখন শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, SIR নিয়ে উত্তপ্ত বাংলা, তারই মাঝে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শিক্ষক (Bengal Teacher) মহলের একাংশ। বেতন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে পদোন্নতি, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারিশপত্র দেওয়া হলেও সরকারের তরফে এই বিষয়ে কেন কোনও হেলদোল নেই? উঠছে প্রশ্ন। একাধিক বিষয়গুলিকে ঘিরে ক্রমেই শিক্ষকদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ। কী হবে আগামী দিনে? সরকার কি তাঁদের দাবি মানবে? উঠছে প্রশ্ন।
ভোটের মুখে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষকরা
সামনেই রয়েছে রাজ্য বিধানসভা ভোট। চলছে প্রস্তুতি। এহেন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না কেউ। বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, ২০২৩ সালে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের দাবি মেনে স্কুল স্তরের শিক্ষকদের পদোন্নতি ও সেই অনুযায়ী কোনও গ্রেড পে দেয় যায় কি না, তা খতিয়ে দেখে আলোচনার জন্য পাঁচ সদস্যের এক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই ৫ সদস্যের মধ্যে ছিলেন স্কুল শিক্ষা দফতর, স্কুল শিক্ষা কমিশনারেট, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। সূত্রের খবর, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে বছর ভিত্তিক মূল্যায়নের সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে মাঝে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, উল্টে প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। আদৌ এই প্রক্রিয়া শুরু হবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
কী কী ছিল সুপারিশপত্রে?
২০২৪-এর ডিসেম্বরে স্কুল শিক্ষা দফতরে এই সুপারিশপত্র পেশ হয়। কিন্তু তার পর থেকে আর এ বিষয়ে আর কোনও চর্চা হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কী ছিল সেই সুপারিশ পত্রে?
১) কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্কুল স্তরেও শিক্ষকদের তিন ধরনের পদের বিন্যাস রাখতে হবে— সহকারী শিক্ষক, সহযোগী শিক্ষক এবং সিনিয়র শিক্ষক।
২) পদোন্নতির জন্য সর্বমোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে ১০-১২ টি বিভাগ। এক একটি বিভাগে প্রায় ১০ নম্বর করে ধার্য হয়েছিল। সেখানে মূল্যায়ন করা হবে শিক্ষক কী ভাবে পড়াচ্ছেন। পড়ুয়ারা সেই শিক্ষাদানের দ্বারা কেমন ভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
৩) যে কোনও রকম সরকারি প্রকল্পে শিক্ষকের যোগদান এবং তাঁর পারফর্ম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে।
৪) দেখা হবে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার বিষয়ে তাঁরা কতটা পারদর্শী।
৫) পড়ুয়াদের অনুপ্রাণিত করতে তাঁরা কতটা সমর্থ তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।
৬) শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিষয়ভিত্তিক পারদর্শিতা কতখানি তা-ও মূল্যায়ন করা হবে।
আরও পড়ুনঃ যুবসাথী নিয়ে চিন্তায় আবেদনকারীরা! দেখা যাচ্ছে না …
কী বলছেন শিক্ষকরা?
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘গত লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হবে বলে শিক্ষা দফতর একটি কমিটি তৈরি করেছিল। রাজ্যের প্রায় চার লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা আশায় রয়েছেন। ফের একটা নির্বাচন আসছে, কিন্তু ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনও কাজই হল না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিকাশ ভবনের এক কর্তা স্বীকার করেছেন ওই সুপারিশ তাঁরা পেয়েছেন। তবে, এই মুহূর্তে এ বিষয় নিয়ে ভাবনাচিন্তার সময় নেই। বর্তমানে এসআইআর, নানা পরীক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী নিয়োগ নিয়ে সকলে ব্যস্ত।