বিজেপিকে লাঠি পেটা থেকে প্রাণে মারার হুঁশিয়ারি! বিতর্কে পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল নেতা

Purba Bardhaman

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আইপ্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে ঝড় আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রথম থেকেই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর অফিসারদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে চলেছে। ঘটনার পরিস্থিতি এমন আকার নিয়েছে যে এই মুহূর্তে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছে তৃণমূল। এবার সেই বিক্ষোভ মিছিলে বিধায়কের সামনে বিজেপি কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিল পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) তৃণমূলের সভাপতি।

বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের হুঁশিয়ারি

কলকাতায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও কার্যালয়ে ইডি অভিযানের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিদের্শে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় মিছিল বের করেছিল তৃণমূল। তেমনই বৃহস্পতিবার বিকালে রায়নার শ্যামসুন্দর বাজারে তৃণমূলের প্রতিবাদ মিছিল বার হয়। আর সেই মিছিল থেকেই বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের কড়া হুঁশিয়ারি দেন রায়না-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বামদেব মণ্ডল। লাঠিপেটা-সহ প্রাণে মারার হুমকিও দেন তিনি। আর এই বির্তকিত মন্তব্যের জেরে তুমুল উত্তেজনা শুরু হয়েছে এলাকা জুড়ে।

আরও পড়ুনঃ কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে নিষিদ্ধ বাইক, বাস, সাইকেল চলাচল, বিকল্প বলে দিল পুলিশ

কী বলেছিলেন তৃণমূলের সভাপতি?

রায়না-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বামদেব মণ্ডল শ্যামসুন্দর বাজারে এদিন মাইক হাতে নিয়ে বিধায়ক শম্পা ধাড়ার সামনেই বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘আগামী দিনে রায়নায় বিজেপির কোনও অস্তিত্ব রাখব না। পতাকা তোলার একটা লোকও রাখব না।’’ এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন, ‘‘পুলিশ বা কোনও আধিকারিক কাউকে দরকার নেই। আমরা আমাদের ক্যাডারদের ব্যবহার করব।’’ পথসভায় প্রকাশ্যে এই রূপ হুমকি নিয়ে বেশ সমালোচনা করেছে বঙ্গ বিজেপির একাংশ।

আরও পড়ুন: হিন্দমোটরে বন্ধ কারখানায় নাবালিকাকে ধর্ষণ, পুলিশের জালে হুগলীর তৃণমূল কর্মী

এলাকার বিধায়কের সামনে তৃণমূলের সভাপতি বামদেব মণ্ডলের এই যেন হিংসাত্মক এবং হুমকিমূলক মন্তব্যের জেরে তাঁকে ‘দুষ্কৃতী’ বলে আখ্যা দেন স্থানীয় বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। তিনি বলেন, ‘‘আগে উনি সিপিএমের হার্মাদ ছিলেন। এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোই তাঁর কাজ ছিল। পালাবদলের সময়ে তিনি আগেভাগেই সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তবে আগের মতোই ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছেন। কিন্তু এসব সাধারণ মানুষ মানবে না। তৃণমূলের পতন অনিবার্য।’’

Leave a Comment