প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই এখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন দখল নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। শাসকদল থেকে বিরোধীদল ভোট প্রচারের প্রস্তুতি নিয়ে এখনই তৈরি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের আগেই যেন মুখ থুবড়ে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে এবার সমবায় নির্বাচনে (Co-operative Bank Election) উঠল গেরুয়া ঝড়, খাতায় খুলতে পারল না তৃণমূল কংগ্রেস।
ভোটের ফলাফলে মুখ থুবড়ে পড়ল তৃণমূল!
জি ২৪ ঘণ্টার রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরে ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি বিজেপির দখলেই রয়েছে। এবার সেই বিধানসভা কেন্দ্রেই সমবায় নির্বাচন হয়, আর সেই নির্বাচনেই শুভেন্দুরা নিজেদের দাপট বজায় রাখল, একবারে ভোটের গুঁতোয় ধরাশায়ী করে দিল তৃণমূলকে। জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, সকাল থেকে টানটান উত্তেজনা মধ্যে চলে ভোটগ্রহণ পর্ব। ভোট দেন হাজার ভোটার। পূর্ব রাধাপুর সমবায় সমিতিতে মোট আসনসংখ্যা রয়েছে ৯ টি। আর সেই ৯টিতেই জিতেছে বিজেপি। শূন্য হাতে ফিরতে হল তৃণমূলকে। আনন্দে মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
ভগবানপুর বিধানসভায়, ভগবানপুর ১ নং ব্লকের পূর্বরাধাপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেড- এর পরিচালন সমিতি নির্বাচনে ৯-০ ফলাফলে তৃণমূলকে পরাজিত করে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করলো।
নবনির্বাচিত সকল সদস্যকে জানাই জাতীয়তাবাদী গৈরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। pic.twitter.com/wms0Mbb4J0
— BJP Mahila Morcha WB (@BJPMM4Bengal) August 28, 2025
কী বলছেন শুভেন্দু অধিকারী?
পূর্ব মেদিনীপুরে ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই ফলাফল প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এইমুহুর্তে রাষ্ট্রবাদী আজ চোরেদের অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস, আর সেই চোরেদের পরাজিত করেছে আমাদের দল। আমরা গত কয়েক মাসে ৫২ সমবায় সমিতিতে চোরদের হারালাম। এবার ধীরে ধীরে গোটা রাজ্য থেকে করে গোটা রাজ্য থেকে তাদের তাড়াবো। চোর এবং দুষ্কৃতিমূলক রাজ্য তৈরি হবে। ” এছাড়াও সমবায় নির্বাচন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘এটা গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল। সিগন্যালটি পরিষ্কার, মানুষ কী চাইছে। রাধাপুরের সমস্ত মানুষকে অভিনন্দন জানাই। ৫২তম জয় হল’।
আরও পড়ুন: স্কুলের মাঠেই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানি! শিক্ষকের কাণ্ডে তোলপাড় পুরশুড়া
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি, নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে নির্বাচনে ১২ আসনের মধ্যে ১২ টিতেই জিতেছিলেন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরাই। একটি আসনও দখল করতে পারেনি বিজেপি। আর সেই ফলাফলে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক এহেন পরাজয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিল। সেই সময় এ বিষয়ে বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পাল জানিয়েছেন, “আমরা এই সমবায় ভোটে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি না । তবে শুনেছি তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে গড়চক্রবেড়িয়া সমবায় ভোটে জিতেছে।” তবে শাসক শিবিরের আশ্বাস আগামী দিনে নন্দীগ্রামে বহু মানুষ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের হাত শক্ত করবে বলে তারা মনে করছেন।