সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম প্রধান মুখ রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে এবার রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। মঙ্গলবার বিধানসভায় তাঁকে নতুন দায়িত্ব দেওয়ার পর শাসক দলকে এক হাত নিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Partha Chatterjee)। বর্তমানে জামিনে মুক্ত থাকা পার্থকে বিধানসভার লাইব্রেরী কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে আবাসন, অগ্নি নির্বাপন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর এই সিদ্ধান্ত নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
শুভেন্দু অধিকারীর বড় দাবি
বিধানসভায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই ফেরত ঘিরে সরাসরি কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্তব্য, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল যদি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করে, তাহলে তাতে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। কারণ, তৃণমূলের সংস্কৃতি হল, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হলেও কেউ যদি দলের প্রতি অনুগত্য থাকেন, তাহলে তাঁকে আবার পুরস্কৃত করা হবে।
এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। বঙ্গ সফরে এসে অমিত শাহ বলেছিলেন, তৃণমূল মানেই দুর্নীতি। এমনকি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন, দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা মন্ত্রীদের টিকিট না দিলে তবেই প্রমাণ হবে যে মুখ্যমন্ত্রী তাদের কাজে সমর্থন করেন না। শুভেন্দুর স্পষ্ট বক্তব্য, আমার নেতা অমিত শাহ যা বলেছিলেন সেটাই আজ বাস্তবে দেখা হচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী এদিন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন অনুব্রত মণ্ডলের কথা। তাঁর অভিযোগ, কেষ্ট মন্ডলের নিরাপত্তা বেড়েছে, মন্ত্রী পদমর্যাদা, নীল বাতির গাড়িও দেওয়া হয়েছে। আর পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তাঁকে। অর্থাৎ যারা এই ধরনের অসামাজিক কাজে যুক্ত, তাদেরকেই সম্মান দেওয়া হচ্ছে। এটাই হচ্ছে বাংলার তৃণমূলের নীতি। আর এই যুক্তি থেকেই তাঁর দাবি, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভোটে দাঁড় করানো হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
আরও পড়ুন: বঙ্গভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মমতার, একযোগে নিশানা কমিশন, মিডিয়াকে!
হুমায়ুন কবীরের প্রসঙ্গে বিস্ফোরক দাবি
এদিকে সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেছেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁকে নিয়েও এদিন বেফাঁস মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবেই বিতর্কিত মন্তব্য করানো হচ্ছে হুমায়ুনকে দিয়ে। মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু সমাজ ওবিসি, ওয়াকফ সহ একাধিক কারণে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষেপে রয়েছে। আর সেই ভোট বিজেপির দিকে ঘুরে যাওয়া আটকাতেই ধর্মীয় আবেগকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট দাবি, ভোটের পর কয়েকটি আসন নিয়ে হুমায়ুন আবার তৃণমূলে ফিরে যাবেন।