প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই রাজ্য রাজনীতিতে এক চাপা উত্তেজনা শুরু হয়েছে ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে। এমতাবস্থায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে বড় নির্দেশ দিল হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্য সরকারকে কড়াকড়ি ভাবে জানিয়ে দিল যে অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কর্মসূচিতে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। মাথায় হাত প্রশাসনের।
শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের রাজ্যের
রিপোর্ট মোতাবেক, কিছুদিন আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে আক্রমণ করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে ছিলেন। যদিও সেই মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতির শুভ্রা ঘোষ শুভেন্দুকে রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। এরপরই ওই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে শুভেন্দু ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়। আর সেই FIR খারিজের দাবিতে জনস্বার্থ মামলার মধ্যেই আলাদা করে আবেদন করেন বিরোধী দলনেতা।
পাল্টা জনস্বার্থ মামলা দায়ের শুভেন্দুর
শুভেন্দু অধিকারী এবং এক বিজেপি বিধায়ক মিথ্যে মামলা দায়ের করে হেনস্থা করা এবং তাঁদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং নানা ভাবে বিড়ম্বনায় ফেলা হচ্ছে এই অভিযোগে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টে। আজ অর্থাৎ সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলাটি ওঠে। রাজ্যের পক্ষ থেকে মামলার শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু আবেদনের বিরোধিতা করেন শুভেন্দুর আইনজীবী। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে নতুন করে যেন কোনও বিরোধী নেতা হেনস্থার শিকার না হন, সে বিষয়ে আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ প্রয়োজন। আর তাতেই সায় দিল হাইকোর্ট।
আরও পড়ুন: এবার রাজ্য সরকারের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে লড়বেন দুঁদে আইনজীবী, চিনে নিন কুণালকে
সোমবার, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ভবিষ্যতে কোনও বিরোধী নেতা বা তাঁদের গাড়ির উপর যাতে কোনও রকম হামলা না হয়, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সম্পূর্ণ দায় নেবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি রাজ্যের বিরোধী দলের বিধায়ক, সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কর্মসূচিতেও যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা সুনিশ্চিত করতে কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি।