বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিল নিজের লোকেরাই! ভারতের হয়ে সোনা জিতল সেই মেয়ে

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কথায় আছে, “চেষ্টা করলে সব সম্ভব।” এই বাক্যই যেন মন্ত্রের মতো কাজ করেছে পায়েল নাগের জীবনে (Para Archer Payal Nag)। সম্প্রতি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড আর্চারি প্যারা সিরিজে 18 বছর বয়সী স্বদেশী প্রতিদ্বন্দ্বী তথা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শীতল দেবীকে হারিয়ে সোনা জিতলেন দেশের গর্ব পায়েল। তাঁর এই জয় দেশের মাথায় নতুন করে পালক জুড়েছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, ভারতের হয়ে সোনা জয়ী এই পায়েল নাগকে একসময় বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করেছিলেন তাঁর স্বজনেরাই!

পায়েল নাগের অতীত ঘাঁটলে চোখ ভিজবে

স্বদেশী প্রতিদ্বন্দ্বী তথা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শীতল দেবীকে পরাস্ত করে দেশের জন্য নতুন করে সোনা জিতেছেন পায়েল নাগ। সেই পায়েলের জীবন কাহিনী অত্যন্ত মর্মান্তিক। জানা যায়, পায়েল যখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী, সেই সময় নবনির্মিত একটি বিল্ডিং এর পাঁচ তলায় ভাইয়ের সাথে খেলার সময় 11,000 ভোল্টের বিদ্যুতের তারে হাত লেগে গিয়েছিল পায়েলের। ভাগ্যের কী পরিহাস বিদ্যুৎপৃষ্ট হওয়ায় পায়েলের দুটো হাত এবং পা বাদ গেলেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন তিনি।

PTI সূত্রে খবর, পায়েল নাগের আত্মীয়রা তাঁর বাবা বিজয় কুমার নাগ এবং মাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, পায়েলের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কিছুই নেই। হাত-পাহীন মেয়েকে তাঁরা যেন বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেন। আত্মীয়রা এও বলেছিলেন, “হাত পা নেই, এমন মেয়েকে রেখে কী লাভ? কোনও এই কাজে আসবে না।” যদিও বাবা বিজয় আত্মীয়দের অকথা কুকথায় কান দেননি। বরং নিজের মেয়েকে জেলা প্রশাসনের অধীনস্ত পার্বতী গিরি বাল অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

অবশ্যই পড়ুন: অবশেষে রেল মানচিত্রে জুড়ছে ঘাটাল? দেবের এলাকায় ছুটবে ট্রেন!

বলাই বাহুল্য, ছেলেবেলা থেকে অনাথ আশ্রমে মানুষ হয়েছেন পায়েল নাগ। প্রথমদিকে প্যারা আর্চার হওয়ার স্বপ্ন তেমন ভাবে না দেখলেও পরবর্তীতে সময় এবং পরিস্থিতি তাঁকে সেই পথে নিয়ে আসে। সেখান থেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরলো পায়েলের। 2023-24 সিজনে কাটরার মাতা বৈষ্ণব দেবী স্রাইন বোর্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে শীতল দেবীর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। এর পর 2025 এ জাতীয় পর্যায়ে অভিষেক হয় পায়েলের। আর তারপরেই এবার নিজের শিক্ষক শীতল দেবীকেই ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড প্যারা আর্চার সিরিজে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতে নিলেন পায়েল।

Leave a Comment