বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ মহারাজের ফ্ল্যাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! কেমন আছেন তিনি?

Premanand Flat Fire

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ধর্মনগরী বৃন্দাবনে শনিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছড়িয়ে পড়ল চাঞ্চল্য। ছাটিকারা রোডের শ্রীকৃষ্ণ শরণম রেসিডেন্সিয়াল সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যেখানে সম্প্রতি বসবাস করতেন বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ মহারাজ (Premanand Flat Fire)। আর এই আগুনের ঘটনাকে ঘিরে আতঙ্ক তো ছড়িয়ে পড়েছেই, পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন গুরুদেবের শিষ্যরা, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।

কোথায় এবং কীভাবে লাগল এই আগুন?

পিআইবি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সোসাইটির গোবিন্দ ব্লকের ২১২ নম্বর ফ্ল্যাটে। বর্তমানে ওই ফ্ল্যাটে প্রেমানন্দ মহারাজের কয়েকজন শিষ্য থাকতেন। শনিবার গভীর রাতে প্রতিবেশীরা হঠাৎ করে ফ্ল্যাট থেকে পোড়া গন্ধ পেয়ে আগুনের আঁচ করতে পারে। তবে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিল্ডিং-এ, যা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। এমনকি বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে।

এদিকে ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে মাত্র একজন পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত তিনি নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পারেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী এবং পুলিশের বিশাল বাহিনী। দমকল কর্মীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বড় খবর এই যে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে শিষ্যদের সংঘর্ষ

প্রসঙ্গত, এই আগুন লাগার খবর সামনে আসতেই রাধা কেল্লি কুঞ্জ আশ্রম থেকে প্রেমামন্দ মহারাজের বিপুল সংখ্যক শিষ্য ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আর অভিযোগ ওঠে, তারা চারদিক থেকে ফ্ল্যাটটি ঘিরে ফেলে এবং কাউকে কাছে যেতে দেননি। এমনকি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সদস সার্কেল অফিসার প্রীতম পাল সিং এবং কোটওয়ালি থানার ইনচার্জ সঞ্জয় পান্ডে। তবে তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করতে বাধা দেওয়া হয়। আর পুলিশের সঙ্গে শিষ্যদের ধস্তাধস্তি হয় বলেও রিপোর্ট। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। তবে পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সেই ফোনগুলোকে ফেরত দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বারবার অনুরোধ করলেও …! কী হয়েছিল সেদিন হাইকোর্টে? জানালেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ

যদিও দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ফ্ল্যাটের ভিতরে যে কতটা পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত সামনে আসেনি। তবে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ প্রশাসন গোটা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তা তদন্ত করে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করার চেষ্টা চলছে।

Leave a Comment