‘বেছে বেছে মুসলিমদের হয়রানি করা হচ্ছে’ এবার জ্বলে উঠল বাসন্তী, হাইওয়েতে বিক্ষুব্ধ জনতা

Basanti

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তুমুল ব্যস্ততা দেখা গিয়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধী দলের অন্দরে। এদিকে নির্বাচনের সময় যেহেতু এগিয়ে আসছে তাই দ্রুততার সঙ্গে চলছে SIR এর কাজ। আর সেই নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি জেলায় জেলায়। এমতাবস্থায় এসআইআর শুনানিতে ভোগান্তির অভিযোগ উঠে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে (Basanti)। হাইওয়ের উপর টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করল স্থানীয়রা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

এসআইআর শুনানিতে হয়রানির অভিযোগ উঠে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। আর এবার এই SIR শুনানি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসন্তী। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ সকাল থেকেই বাসন্তী থানার অন্তর্গত ভাঙনখালি এলাকায় হাইওয়ের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন গ্রামবাসীরা। যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্তব্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বিক্ষোভের জেরে সপ্তাহের কর্মব্যস্ত প্রথম দিনে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পড়ে বাস, টোটো। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, নিত্যযাত্রীরা প্রবল ভোগান্তির শিকার হন। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বাসন্তী থানার পুলিশদের।

নথি নিলেও ডাকা হচ্ছে শুনানিতে!

জানা গিয়েছে, যে এলাকায় অবরোধ চলছে, সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই সংখ্যালঘু। রীতিমত চিৎকার করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থাকেন। তাঁদের দাবি, SIR-এর নোটিসের নামে সাধারণ মানুষকে অহেতুক ডেকে পাঠানো হচ্ছে, নথিপত্র নিয়ে অযথা প্রশ্ন তোলা হচ্ছে এবং হয়রান হতে হচ্ছে। কাউকে কাউকে একাধিক বারও ডাকা হচ্ছে। এক বিক্ষোভকারীর বক্তব্য, “মুসলমানদের বেছে বেছে হেনস্থা করা হচ্ছে। আমাদের এক-একজনের ২-৪ টে ছেলেমেয়ে রয়েছে। আমাদের অন্য দাদাদিদিদের হয়ে যাচ্ছে, আমাদের হচ্ছে না। আমাদের ৬টা ছেলে হয়েছে বলে প্রমাণ দিতে বলছে।”একই কারণে দু’বার ডাকা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এই হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ না হলে আগামিদিনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আরও পড়ুন: “আজ কোর্টে হারিয়েছি, এপ্রিলে ভোটে হারাবো” বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেকের রণহুঙ্কার

প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকাতে ক্ষোভ ছড়িয়েছে SIR শুনানকে ঘিরে। বাদুড়িয়া, মগরাহাট এবং মঙ্গলকোটেও এসআইআর শুনানি ঘিরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গিয়েছে। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, সমস্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরেও কেন একসঙ্গে এত মানুষের কাছে আবার শুনানির নোটিস পাঠানো হচ্ছে? এদিকে বয়সের প্রমাণ হিসেবে অনেকেই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়ায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নয়, শংসাপত্রই দিতে হবে। সব মিলিয়ে, SIR শুনানিকে ঘিরে রাজ্যের একাধিক জায়গায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment