প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বেড়েই চলেছে সোনার দাম। দিনের পর দিন যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলেছে এই হলুদ ধাতু, তাই স্বাভাবিকভাবেই বিয়ের মরশুমে সোনা কিনতে গিয়ে রীতিমত মাথায় হাত পড়ছে মধ্যবিত্তদের। এমতাবস্থায় ব্যাংকের লকারে সোনা রাখা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ওরফে আরবিআই (RBI Rules)।
লকারের আর্থিক ক্ষতিপূরণের দায়ভার নেয় না ব্যাংক!
স্বাভাবিকভাবেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে ইনকাম করা অর্থের একটা বড় অংশ দিয়ে সকলেই ভবিষ্যৎ এর জন্য সোনা কিনে থাকেন। এরপরই নিরাপত্তার জন্য সোনা বা মূল্যবান গয়না রাখার জন্য প্রথমেই মাথায় আসে ব্যাংকের লকারের কথা। কারণ সাধারণ মানুষের ধারণা, লকারে গয়না রাখা মানেই তা সম্পূর্ণ ব্যাংকের দায়িত্ব পাশাপাশি শতভাগ সুরক্ষিত। কিন্তু এবার সেই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। তাঁদের দেওয়া নির্দেশিকা বলছে লকার কেবল বাহ্যিক সুরক্ষা দিলেও নাকি কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দায়ভার ব্যাংক পুরোপুরি নেয় না।
ব্যাংকের ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতা
RBI স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে ব্যাংকের লকারে আপনি কী রাখছেন, তার কোনও বিমা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ করে না। কারণ লকার চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকে যে, লকারের ভেতরকার জিনিসের দায়িত্ব গ্রাহকের। তাই লকারে রাখা সোনা চুরি হলে বা আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গেলে ব্যাংক আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য নয়। তবে যদি ব্যাংকের গাফিলতি থাকে তাহলে ব্যাংকের দায় সর্বোচ্চ বার্ষিক লকার ভাড়ার ১০০ গুণ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ যদি আপনার লকারের বার্ষিক ভাড়া হয় ২,০০০ টাকা, তাহলে ব্যাংক সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকার দায় নেবে।
লকারে রাখা সোনার কোনও বিমা দেওয়া হয় না
অন্যদিকে ব্যাংকের গাফিলতি ছাড়া যদি বন্যা, ভূমিকম্প বা বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনও দায়ভার গ্রহণ করবে না। অর্থাৎ, এই ধরনের ঘটনায় আপনার সঞ্চিত মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হলে তার পুরো আর্থিক ক্ষতি গ্রাহককেই বহন করতে হয়। পাশাপাশি অনেকেই মনে করেন, ব্যাংক লকার মানেই সোনার বিমা করা আছে। কিন্তু আদতে তা নয়। ব্যাংক লকারে রাখা সোনার জন্য কোনো বিমা দেয় না। এমনকি ব্যাংক সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লকার গ্রাহকদের জন্য কোনও বিমা পণ্য অফারও করতে পারে না। তাই লকারের ভরসায় বসে না থেকে সঠিক বিমা এবং নথিপত্র গুছিয়ে রাখাই শ্রেষ্ঠ বলে মনে করছে RBI।
আরও পড়ুন: বদলে যাচ্ছে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপারের মেনু, মিলবে আমিষ খাবারও
পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন লকারে সোনা রাখার জন্য আলাদাভাবে ‘জুয়েলারি ইন্স্যুরেন্স’ বা বিমা করিয়ে রাখা উচিত যা ভবিষ্যতে আর্থিক ক্ষতি পূরণ করবে। এবং গয়নার বর্তমান বাজারমূল্য কত এবং সেগুলো দেখতে কেমন, তার প্রমাণ হিসেবে ছবি এবং ভ্যালুয়েশন সার্টিফিকেট সংগ্রহে রাখতে হবে। মনে রাখবেন ব্যাংক লকার নিরাপত্তার একটি স্তর দিলেও, তা গচ্ছিত সোনার সম্পূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। তাই সেক্ষেত্রে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।