প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিবার্চনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই যেন রাজ্য রাজনীতির পারদ আরও বাড়ছে। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য কর্মসূচি করেই চলেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এমতাবস্থায় মালদায় (Malda) কয়েক কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে এক সমবায় ব্যাংকের ম্যানেজার ও ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে সেই ম্যানেজার স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে। আর ক্যাশিয়ার তাঁর খুড়তুতো ভাই। আর তার জেরে সমস্যায় পড়েছেন অসংখ্য গ্রাহক।
কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ!
রিপোর্ট মোতাবেক, মালদার রতুয়া-১ নম্বর ব্লকের বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত সাহানগর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি লিমিটেডের মিনি ব্যাঙ্কে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে৷ জানা গিয়েছে, ওই ব্যাঙ্কের ম্যানেজার অমিতকুমার মণ্ডল ওই গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধানের ছেলে৷ আর বাবা ঐ এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা এবং ক্যাশিয়ারে থাকতো তাঁর ভাইপো প্রণবকুমার মণ্ডল। এলাকার প্রায় ১৫-২০ হাজার ক্ষুদ্র কৃষিজীবী সেখানেই নিজেদের সঞ্চয় করতেন৷ কিন্তু বর্তমানে ওই ব্যাঙ্কের শাটারে তালা ঝোলানো হয়েছে। টাকার জন্য ব্যাঙ্কে গেলে সেখানে ম্যানেজার এবং ক্যাশিয়ার কারোর কোনো হদিশ নেই।
পুলিশ তদন্তের আশ্বাস দিচ্ছে
মিনি ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না৷ সব হারিয়ে কেউ কেউ ভেঙে পড়ছেন কান্নায়। এদিকে, অভিযোগ কার্যত মেনে নিয়েছেন পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী৷ মেনে নিয়েছেন এলাকার তৃণমূল বিধায়কও৷ তবে এই ঘটনার দায় পুরোপুরি চাপিয়ে দিয়েছেন ভাইপোর কাঁধে। কিন্তু গ্রাহকরা কবে তাঁদের জমানো টাকা ফেরত পাবেন কেউ জানে না৷ পুলিশ তদন্তের আশ্বাস দিচ্ছে। প্রতিদিনই তাঁরা ব্যাঙ্কের ম্যানেজার অমিতকুমার মণ্ডল কিংবা ক্যাশিয়ার প্রণবকুমার মণ্ডলের বাড়ির সামনে ভিড় জমাচ্ছেন ৷ অভিযোগ এখানে ১০-১২ হাজার অ্যাকাউন্ট রয়েছে৷ সব মিলিয়ে ১২-১৩ কোটি টাকা তছরুপ হয়েছে।
অস্বস্তিতে শাসকদল
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তার আগে টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠতেই অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল। এই প্রসঙ্গে রতুয়া কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় জানান, “ওই সমবায় ব্যাংকের লোকজন বেশি সুদের লোভ দিয়েছিল ৷ এখন টাকার অভাবে কারও মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না, কারও চিকিৎসা হচ্ছে না ৷ তারা আমার কাছে আসছে ৷ ওই ব্যাঙ্কে প্রায় পাঁচ হাজার আমানতকারী রয়েছে ৷ আমি প্রশাসনকে বলব, এটার যেন ব্যবস্থা করা হয়। আমানতকারীরা সব আমারই ভোটার৷ কিছু একটা ব্যবস্থা হবেই৷”
আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কের মতোই মিলবে পরিষেবা, শীঘ্রই নতুন প্ল্যাটফর্ম আনছে EPFO
মালদার এই সমবায় ব্যাঙ্কে বিপুল টাকা তছরুপের বিষয়ে উত্তর মালদা বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া বলেন, “গরিব মানুষ টাকার জন্য প্রতিদিন ব্যাঙ্কে যাচ্ছেন ৷ তাঁদের কেউ মেয়ের বিয়ে দেবেন, কেউ বা বাড়ি বানাবেন। কিন্তু ব্যাঙ্কে তালা৷ তৃণমূল যে চোর আর লুটেরা, সেটা ফের প্রমাণিত হল ৷” এই ব্যাপারে জেলাশাসক প্রীতি গোয়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু তিনি ফোন না-ধরায় এই নিয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ৷ অন্যদিকে মালদার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি ৷ কোনও মানুষ যাতে প্রতারিত না হন তার জন্য অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে ৷”