সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে এবার বিরাট চাপের মুখে পড়তে পারে ভারত সহ একাধিক দেশ (United States on India)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই রাশিয়া বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বিলে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এমনটাই দাবি করছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। আর এই বিল কার্যকর হলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপাতে পারে আমেরিকা।
কোন বিল দিয়ে এত বিতর্ক?
আসলে এই বিতর্কিত বিলটি তৈরি করেছেন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়া থেকে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা অন্যান্য জ্বালানি কিনছে এরকম দেশগুলোর উপর আর্থিক চাপ বাড়ানো। গ্রাহামের দাবি অনুযায়ী, যে দেশগুলির থেকে তেল কিনে প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে জ্বালানি যোগাচ্ছে, তাদের উপর কঠোর শুল্ক আরোপ করা হবে।
আরও পড়ুন: স্মার্টফোন, টিভি, ফ্রিজে মিলবে বিরাট ছাড়! শুরু হচ্ছে ফ্লিপকার্ট ‘রিপাবলিক ডে সেল’
বলাবাহুল্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত, চিন, ব্রাজিল উল্লেখযোগ্য হারে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করছে। ফলত, এই দেশগুলি এই বিলের আওতায় পড়তে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। কারণ, রাশিয়ান তেল তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ার কারণে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সবথেকে বড় ভরসা।
আরও পড়ুন: বেসরকারি কর্মীদের ন্যূনতম পেনশন হতে পারে ৫০০০ টাকা! বড় সিদ্ধান্তের পথে EPFO
এ বিষয়ে লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, বুধবার হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। আর সেখানে ট্রাম্প এই বিলের সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিকও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রাহাম নিজেই বলেছেন, ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন হামলা থামাচ্ছে না। এই সময় এই বিল সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিঘ্রই অর্থাৎ আগামী সপ্তাহেই এই বিল নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সরকারের অর্থ বরাদ্দ সংক্রান্ত প্যাকেজ পাস হওয়ার উপরেই নির্ভর করছে। এখন দেখার ভারতের উপর সত্যিই এই বিলের প্রভাব পড়ে কিনা।