বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রচন্ড ক্রোধের বশবর্তী হয়ে ভারতের উপর অতিরিক্ত 25 শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US Tariff On India)। ফলে ভারতের উপর আমেরিকার চাপানো মোট শুল্কের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছিল 50 শতাংশে। তবে শোনা যাচ্ছে, এবার নয়া দিল্লির সাথে ওয়াশিংটন ডিসির সম্পর্কের বরফ গলতে চলেছে। সব ঠিক থাকলে, খুব শীঘ্রই ভারতের উপর থেকে অতিরিক্ত 25 শতাংশ শুল্কের বোঝা তুলে নেবে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই সেই ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন মার্কিন অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট।
কেন এমন সিদ্ধান্ত আমেরিকার?
ভারতের উপর আমেরিকার অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর কারণ কমবেশি সকলেই জানেন। রাশিয়া থেকে বিপুল ছাড়ে অপরিশোধিত তেল কেনার অভিযোগে নয়া দিল্লির উপর দুই দফায় 50 শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। এবার সেই শুল্কের অর্ধেক অংশ তুলে নিতে চলেছে তারা। এ নিয়ে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম পলিটিকো-র সাথে কথা বলার সময় আমেরিকার অর্থ সচিব বললেন, “ভারতের উপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপে অত্যন্ত সফল আমেরিকা। নয়া দিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনা একেবারে বন্ধই করে দিয়েছে। এদিকে শুল্ক এখনও চালু। আমার মনে হয় এবার শুল্কটা তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। সেই পথ খুলছে ধীরে ধীরে।”
বলাই বাহুল্য, এর আগে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের কাছে একই বক্তব্য রেখেছিলেন আমেরিকার অর্থ সচিব। শুধু তাই নয়, বিগত দিনগুলিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধই করে দিয়েছে। এক কথায়, ভারতের প্রতি সুর নরম করেই বাণিজ্যিক চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এবার আমেরিকার অর্থ সচিবও নয়া দিল্লির উপর থেকে ওয়াশিংটন ডিসির অতিরিক্ত শুল্ক তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন।
অবশ্যই পড়ুন: “আমাদের বাদ দিয়ে দিচ্ছে…”, ICC র ঘাড়ে দোষ ঠেলে কান্না জুড়ল বাংলাদেশ!
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকটি সাম্প্রতিক বেসরকারি রিপোর্ট দাবি করছে, বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে ভারত। যদিও এ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সরকার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এর আগে ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল কেনা এবং ওই লেনদেনের মধ্যে দিয়ে মস্কোকে যুদ্ধে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুললেও নয়া দিল্লির বক্তব্য ছিল, “জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে যা করার দরকার করব আমরা।” এদিকে বারবার ট্রাম্প রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার দাবি করলেও, মুখে কুলুপ মোদি সরকারের।