ভারতে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা Google-র

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে ভারতে চলছে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট, যেখানে একাধিক দেশের প্রতিনিধিরা যোগদান করেছেন। এবার ভারতে এআই নিয়েই বিরাট ঘোষণা করলেন স্বয়ং গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই (Sundar Pichai) এবং ডিপমাইন্ডের ডেমিস হাসাবিস। হ্যাঁ, দেশে বদলাতে চলেছে এআই-র ভবিষ্যৎ। আগামী পাঁচ বছরে ভারতে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন বলেই জানালেন তারা (Google Invest in India)। এর জেরে তৈরি হবে উন্নত ডেটা সেন্টার এবং বাড়বে কর্মসংস্থান।

উল্লেখ্য, ভারতে চলা এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে উপস্থিত হয়েছেন দুই সংস্থার প্রধান। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎকার হয়েছে সুন্দর পিচাই এর। আর সেখানেই এই বিনিয়োগ নিয়ে বিরাট ঘোষণা করা হল। জানানো হয়েছে, ভারতেই তৈরি হবে এআই হাব। আর এই হাবে এআই মডেল প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ক্লাউড পরিষেবা এবং বৃহৎ আকারে কম্পিউটিং পরিষেবা দেওয়া হবে। এছাড়া ভারতের পাশাপাশি আশেপাশের দেশগুলিকেও এই এআই সেন্টার সাহায্য করবে।

গুগলের মূল লক্ষ্য কী?

গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই জানিয়েছেন, সমুদ্রর নিচে একটি বৃহৎ কেবল সেন্টার তৈরি করা হবে। যেহেতু দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমতা ঠিকভাবে কাজ করে না, তাই গুগল এবার ভারতকে সরাসরি বিশ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করেই সমুদ্রের নিচে নতুন ইন্টারনেট কেবল স্থাপন করবে বলে জানিয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই কেবলগুলো ভারতকে সরাসরি দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। আর এতে দেশে ইন্টারনেটের গতিও বৃদ্ধি পাবে।

বলে রাখি, এই ডেটা সেন্টারগুলিতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার সার্ভার থাকে। সেক্ষেত্রে এই সার্ভারগুলি ইন্টারনেট, ক্লাউড, অ্যাপস আর এআই টুলগুলিকে শক্তি দেয়। যখন আমরা মোবাইল বা কম্পিউটারে কোনও কাজ করি, সেক্ষেত্রে ডেটাগুলি অন্য আর এক ডেটা সেন্টারে যায়। আর সেখান থেকেই ফোনে উত্তর আসে। সহজ কথা বলতে গেলে, ডেটা সেন্টার হল ইন্টারনেট আর এআই-র মূল ভিত, যেখানে সমস্ত ডিজিটাল পরিষেবা খুব সহজেই পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: AI যেন মানুষের কল্যাণেই কাজ করে, এআই ইম্প্যাক্ট সামিটে বললেন মোদী

১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষকে দেওয়া হবে প্রশিক্ষণ

এদিন গুগলের সিইও জানিয়েছেন, ভারতে ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষকে এবার এআই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আর শুধুমাত্র বড় বড় শহরগুলি নয়, বরং ছোট জায়গাগুলিতেও পরিষেবা দেবে। বর্তমানে ইন্টারনেটের বেশিরভাগ ট্রাফিকগুলি চিন, ইউরোপ এবং আমেরিকার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করে। তবে ভারতে এই ডেটা সেন্টার তৈরি হলে তার কেন্দ্রবিন্দু হবে ভারতই। এর ফলে ডেভলপার থেকে শুরু করে সংস্থাগুলিও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটিং অ্যাক্সেস করতে পারবে এবং ক্লাউড পরিষেবা পাবে। তাদেরকে বিদেশী সার্ভারের উপর আর নির্ভর করতে হবে না। আর এতে খরচ কমবে এবং কাজের গতি অনেকটাই বাড়বে। সবথেকে বড় ব্যাপার, এই প্রযুক্তি সফলভাবে কাজে লাগাতে পারলে প্রচুর কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে।

Leave a Comment