সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়ুল মেরেছে কাঙাল পাকিস্থান! ক্ষোভের বসে ভারত থেকে টিকা কেনা বন্ধ করে দিয়েছিল সন্ত্রাসের দেশ। তবে এবার নিজেরাই টিকা সংকটের মুখোমুখি (Pakistan Vaccine Crisis)। অন্যান্য দেশ থেকে বিনামূল্যে টিকা আমদানি বন্ধ হওয়াতে এবার পাকিস্তানের টিকার দাম তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে অর্থ সংকটের কারণে দেশটি পোলিও টিকাদান কর্মসূচিতেও কাটছাঁট করেছে। আর সম্প্রতি স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ। ফলে এক কথায়, সব দিক থেকে জর্জরিত পাকিস্তান।
টিকার অভাবে ভুগছে সন্ত্রাসের দেশ
নবভারত টিভির এক রিপোর্ট বলছে, পাকিস্থান বছরে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার টিকা কিনে থাকে। এমনকি GAVI-র মাধ্যমে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এই খরচের মোটামুটি ৪৯ শতাংশ বহন করে আর বাকি ৫১ শতাংশ দেয় সরকার। এমনকি এক রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তান যদি স্থায়ীভাবে টিকা উৎপাদন না করতে পারে, তাহলে ২০৩১ সালের মধ্যে বার্ষিক প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হবে। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেছেন, ২০৩১ সালের মধ্যে টিকার জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য শেষ হবে।
আরও পড়ুনঃ দক্ষিণবঙ্গে শীতের মুড সুইং, আর কতদিন থাকবে ঠান্ডা? জানাল আবহাওয়া দফতর
অন্যদিকে রিপোর্ট বলছে, পোলিও টিকাদান অভিযানের সময় পূর্ব নির্ধারিত ৭ দিন থেকে কমিয়ে মাত্র ৪ দিন করা হয়েছে। আর পুরুষ এবং মহিলা কর্মী থেকে শুরু করে এলাকার ইনচার্জ, ইউনিয়ন পরিষদের মেডিকেল অফিসারদের বেতনেও করা হয়েছে কাটছাঁট। এক কথায় পাকিস্তানের ভাঁড়ারে যে টান পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেখানে পোলিও কর্মীদের আগে ১৩ হাজার পাকিস্তানি রুপি বেতন দেওয়া হতো, সেখানে তাদের বেতন কমিয়ে করা হয়েছে ৭ হাজার পাকিস্তানি রুপি। পাশাপাশি যারা ১৯ হাজার পাকিস্তানি রুপি বেতন পেত, তাদের করা হয়েছে ৯২১৬ পাকিস্তানি রুপি।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নিয়ম শিথিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার, আবেদন প্রক্রিয়ায় বড়সড় বদল
ভারত থেকে টিকা কেনা বন্ধ করাই হল কাল
প্রসঙ্গত, পাকিস্তান বরাবরই ভারত থেকে আসা সাশ্রয়ী মূল্যে টিকা ক্রয় করে থাকে। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সত্বেও, এমনকি কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ও ভারতীয় টাকা পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল। ভারত বিশেষ করে GAVI-র মাধ্যমে পাকিস্তানে সাশ্রয়ী মূল্যে এই উচ্চমানের টিকা সরবরাহ করে থাকে। তবে অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত থেকে সেই সরবরাহ বন্ধ হয়। তারপর থেকেই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান তাদের নাগরিকদের ১৩টি টিকা সরবরাহ করে থাকে। তবে তার মধ্যে একটিও দেশে তৈরি হয় না। আর দেশের জনসংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ঠিকমতো টিকা পাচ্ছে না শিশুরা। সেই কারণেই এখন সংকটের মুখে দেশটি। তবে জানা যাচ্ছে, এবার সৌদি আরবের সাথে অংশীদারিত্বের কথা বিবেচনা করছে সন্ত্রাসের দেশ। যদিও এ বিষয়ে কোনও অফিসিয়াল ঘোষণা করা হয়নি।