বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কিছুদিন আগেই মাত্র তিন ঘন্টার ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ। ভারতে এসেই তিনি দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে। সেখানেই দুই নেতার বৈঠকে ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে বাণিজ্য সহ একাধিক বিষয় নিয়ে চুক্তি এবং গভীর আলোচনা হয়েছে। আর তারপরই পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দিল UAE (UAE-Pakistan Relations)। জানা যাচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাষ্ট্রপতি ভারত সফর শেষ করে দেশে ফিরতেই পাকিস্তানের সাথে হতে যাওয়া বিরাট চুক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এমন খবর প্রকাশ করেছে মিডিল ইস্ট আই।
পাকিস্তানকে বিরাট ধাক্কা UAE র!
মিডিল ইস্ট আই এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট মাসে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কটে নাজেহাল শেহবাজ সরকারের সাথে এক বেসরকারিকরণ চুক্তি নিয়ে সম্মত হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। সব ঠিক থাকলে আগামী দিনে পাকিস্তানের সাথে বড় চুক্তির পথে যেত UAE। তবে এখন জানা যাচ্ছে, ভারত সফর শেষ করে দেশে ফিরতেই পাকিস্তানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি থেকে সরে এসেছেন UAE র রাষ্ট্রপতি। একাধিক সূত্র মারফত খবর, ইসলামাবাদ বিমানবন্দর পরিচালনা অর্থাৎ বিমানবন্দর বেসরকারিকরণ এর জন্য UAE র সাথে বড় চুক্তির অপেক্ষায় ছিল পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আশায় জল পড়ল।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকে, ঠিক কোন কারণে পাকিস্তানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে UAE? এ প্রসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত কিনা সেটাও জানা যায়নি। তবে কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সাথে এমনিতেই সম্পর্কের অবনতি হয়েছে সৌদি আরবের। তার উপর UAE ক্রমশ কাছাকাছি গেছে ভারত এবং ইজরায়েলের। এই দুই দেশের সাথে সামরিক সহ অন্যান্য সবক্ষেত্রে সম্পর্ক মজবুত করতে চাইছে UAE। হয়তো সে কারণেই, পাকিস্তানকে দূরে সরিয়ে রাখছে তারা।
ওই রিপোর্টে এও বলা হচ্ছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের সাথে বিশেষ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল সৌদি আরব। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ভারতের সাথে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এদিকে আগে থেকে পাকিস্তানের সাথে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ভালো সম্পর্ক থাকলেও পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে কঠিন সময় সৌদি আরবের পাশে থাকবে তারা। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই মনে করছেন, প্রথমত সৌদি আরবের সাথে খারাপ সম্পর্ক থাকায় পাকিস্তানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি থেকে সরে আসছে UAE। এছাড়াও পাকিস্তানের জাত শত্রু ভারত। তাই ভারতের সাথে সম্পর্ক মজবুত করতে ইসলামাবাদের সাথে পুরনো সম্পর্ক কিছুটা হলেও ছিন্ন করবে UAE।
অবশ্যই পড়ুন: জাতীয় সঙ্গীতের মতোই এবার দাঁড়াতে হবে বন্দে মাতরমেও! বড় কিছু করতে চলেছে সরকার
বহু কূটনীতিকের দাবি, পাকিস্তান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মধ্যে অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক ছিল এতদিন। সবচেয়ে বড় কথা, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেকটাই শক্তিশালী। বিশেষ করে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে দুই দেশ একে অপরকে সাহায্য করে আসছে। তবে পাকিস্তান যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীকে অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ফলে কার্যত শত্রুর বন্ধুর সাথে সম্পর্ক রাখতে চাইছে না UAE। তাছাড়াও, আগামী দিনে কঠিন পরিস্থিতির হাত থেকে বাঁচতে ভারতের আশ্রয় আশা প্রয়োজন সেটা ভালোভাবেই বোঝে UAE র শীর্ষ নেতৃত্ব।