ভোটের আগেই বড় জয় শুভেন্দুর! বিশেষ নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিবার্চনের হাওয়ায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। জনসংযোগ বাড়াতে দফায় দফায় বিভিন্ন জেলায় একের পর এক কর্মসূচি করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবির। আর এই আবহে কলকাতা হাইকোর্ট স্বস্তি দিল শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)। নির্বাচনের আগেই বড় জয় পেলেন তিনি। সমস্ত তদন্তের ভিত্তিতে অবশেষে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হল শুভেন্দুকে। পাশাপাশি আদালতের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা যাবে না।

শুভেন্দুর কনভয়ে হামলা মামলার নয়া মোড়

দ্য ওয়ালের রিপোর্ট অনুযায়ী, কিছুদিন আগে পূর্ব মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় বিজেপির এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ির কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয়েছিল। শুভেন্দুর অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর গাড়িতে হামলা চালায়।এরপর প্রতিবাদ জানাতে তিনি সোজা চন্দ্রকোনা পুলিশের বিট হাউসে পৌঁছে যান। সেখানে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। ঘণ্টা ছয়েক পর অভিযোগ দায়ের করে থানা ছাড়েন তিনি। পরেরদিন আবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পাল্টা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। শেষে এই পাল্টা অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে হাইকোর্টে আবেদন জানান শুভেন্দু অধিকারী।

অন্তর্বর্তী সুরক্ষাকবচ দেওয়া হল শুভেন্দুকে

শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর আইনজীবী বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজ্যের দায়িত্ব। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন, শুধু তাই নয় পাল্টা তাঁকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও আদালতে দাবি করা হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির শুভ্রা ঘোষ শুভেন্দুকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষাকবচ দিলেন। পাশপাশি শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার ঘটনায় রাজ্য ও সিএপিএফ-কে রিপোর্ট দিতেও নির্দেশ দিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ক্রমেই চড়ছে পারদ, আশাকর্মীদের বিক্ষোভে উত্তাল পরিস্থিতি স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে!

প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত শুভেন্দু অধিকারীর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর শুভেন্দুকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। সেই সময় নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, হাইকোর্টের নির্দেশ ছাড়া শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না রাজ্য। পরে হাইকোর্টের ওই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ নিয়ে বিভিন্ন সময় শাসকদল শুভেন্দুকে কটাক্ষ করলে সেটি প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি।

Leave a Comment