প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বেশ উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে এখন থেকেই ময়দানে নেমে পড়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এমতাবস্থায় আজ ভোটের আগে শেষবারের মত অন্তর্বর্তী বাজেট প্রকাশিত হল। সাধারণের সুবিধার্থে রীতিমত কল্পতরু সরকার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বেকার ভাতা থেকে শুরু করে আশাকর্মী এবং সিভিকদের বেতন বৃদ্ধি এবং সরকারী কর্মীদের DA বৃদ্ধি নিয়ে বেশ সুনাম অর্জন করেছে মমতা সরকার। আর এই আবহে কেন্দ্রকে ঝটকা দিতে অন্তর্বর্তী বাজেটে (Bengal Budget 2026) ১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিল রাজ্য।
১০০ দিনের কাজে বরাদ্দ বৃদ্ধি মমতার
রিপোর্ট মোতাবেক আজ, বিধানসভায় দুপুর আড়াইটেয় বাজেট পেশ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। একাধিক আলোচনা এবং সিদ্ধান্তে বিভিন্ন প্রকল্পের ভাতা এবং কর্মীদের বেতন বাড়ানো হয়। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগের মাঝেই গ্রামীণ কর্মসংস্থানে জোর দিল রাজ্য সরকার। গত ডিসেম্বরে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম বিতর্কের প্রতিবাদে রাজ্য সরকার নিজস্ব প্রকল্প ‘কর্মশ্রী’-র নাম রেখেছিল ‘মহাত্মাশ্রী’। আর এবার সেই প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হল রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে। জানা গিয়েছে, ১০০ দিনের কাজে ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর এটি তখনই কার্যকর হবে যখন তৃণমূল চতুর্থবার সরকার গঠন করবে।
রাজ্যে বেকারত্ব নিয়ে মুখ খুললেন মমতা
দিনের পর দিন যে হারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ছে তাতে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষজনের কর্মসংস্থানের জন্য ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এদিকে ১০০ দিনের কাজ থেকে আবাস একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে অর্থ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ ,করে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজও তাঁর দাবি, ”শত বঞ্চনা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখেই চলেছে। আমাদের আমলে রাজ্যে বেকারত্ব ৪৫.৬৫ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়াও ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র সীমার আওতা থেকে বের করে এনেছি।” সবশেষে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গরিবদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
আরও পড়ুন: ১০০০ টাকা বেতন বৃদ্ধি সহ আরেকটি উপহার, সিভিকদের জন্য বড় ঘোষণা বাজেটে
উল্লেখ্য, বর্তমানে মমতা সরকারের মেয়াদ চলতি বছরের মধ্য মে পর্যন্ত। যার ফলে এবার পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের সুযোগ নেই। সেই কারণেই টার্গেট করা হয়েছে রাজ্যের অন্তর্বতী বাজেটকে। এদিন বাজেট পেশের পরেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে রাজ্যের উন্নয়নের ‘রেকর্ড’ খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান মুখ্য উপদেষ্টা অমিত মিত্র। সব মিলিয়ে ভোটের মুখে এই বাজেট কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে কড়া সুর চড়ালেন মমতা।