মকর সংক্রান্তি ইসলামে হারাম, বাজানো যাবে না বাদ্যযন্ত্র! বাংলাদেশে হুঁশিয়ারি মৌলবাদীদের

Makar Sankranti in Bangladesh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশের দিনের পর দিন রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। তবে এবার মৌলবাদী গোষ্ঠীর মুখে পড়ল বাঙালির অন্যতম প্রাচীন লোক উৎসব মকর সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ (Makar Sankranti in Bangladesh)। অভিযোগ উঠছে, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে একাধিক ইসলামী মৌলবাদী সংগঠন মকর সংক্রান্তি পালনকে ইসলামে হারাম বলে ফতোয়া জারি করছে। এমনকি দেশজুড়ে সংখ্যালঘুদের উপর তৈরি করা হচ্ছে চাপ।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব এখন প্রশ্নের মুখে

আসলে নতুন বছরের শুরুতে ধান ঘরে তোলার আনন্দে এপার ও ওপার দুই বাংলাতেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালিত হয়ে আসছে এই মকর সংক্রান্তি উৎসব। পিঠেপুলি খাওয়া, নবান্ন, গ্রামীণ মেলা ইত্যাদির মাধ্যমেই আয়োজন করা হয় এই উৎসব। এমনকি বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এই মকর সংক্রান্তি উৎসব। কিন্তু চলতি বছরে বাংলাদেশের সেই লোক উৎসব এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে একাধিক হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় পোস্টার এবং প্রচারের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে যে, মকর সংক্রান্তি পালন করা ইসলামের পরিপন্থী আর সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন করে বলা হচ্ছে, আগামী ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ। তবে এই দিন কোনও জায়গায় যেন কোনও রকম বাদ্যযন্ত্র না বাজে। আমরা সমস্ত বাদ্যযন্ত্রের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছি। এমনকি হিন্দুদের উদ্দেশ্যে যে সরাসরি এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নবাদী বলে মানতে চাইছে না বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ইউনূস সরকারের আমলে ধারাবাহিকভাবে বাংলা সংস্কৃতি ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার বাড়ছে, এবং বিভিন্ন জায়গায় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি এর আগে সরস্বতী পূজার ছুটি বাতিল, ২১ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্তর থেকে নেওয়া হয়েছিল। আর এবার সেই তালিকায় যুক্ত করা হলো পৌষ পার্বণ।

আরও পড়ুন: ‘২৭ হাজার কোটি …’ মহিলাদের মুখে হাসি ফুটিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা

হাসিনা সরকারের পতনের পরেই পরিস্থিতি জটিল

বলাই বাহুল্য, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা দিনের পর দিন বাড়ছে। এমনকি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক হিন্দু নিহত হয়েছে মুসলিমদের হাতে। পাশাপাশি মন্দির ভাঙচুর থেকে শুরু করে বাড়িঘরে হামলা, সামাজিক বা ধর্মীয় উৎসব বাঁধা সৃষ্টির জেরে এবার কোনঠাসা হয়ে পড়ছে দেশের সংখ্যালঘুরা।

Leave a Comment