সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে টানাপোড়েন। এবার দিল্লিকে চাপে রাখতে বিরাট ফন্দি আঁটল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস (Government of Bangladesh)। চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার এক অস্ত্র কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনায় সায় দিল বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এমনকি যে জমিতে ওই কারখানা গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি আগে ভারতের জন্য নির্ধারিত অঞ্চল ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমিতে অস্ত্র কারখানা
সরকারি সূত্র মারফৎ খবর, মিরসরাইয়ে প্রায় ৯০০ একর জমি যেখানে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল, সেখানেই এই অস্ত্র কারখানা তৈরি করা হচ্ছে। এদিকে এই কারখানায় মূলত কামান এবং গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতদিন যাবৎ বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে বিদেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র আমদানি করত। তবে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানির বাজারেও এবার প্রবেশ করতে চলেছে তারা।
কিন্তু এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। তবে তার পিছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান আর্থিক অবস্থার নিরিখে এরকম একটি ব্যয়বহুল অস্ত্র কারখানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকা ভারতের ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যের খুব কাছাকাছি। তাই ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অস্ত্র কারখানা স্থাপন কৌশলগত দিক থেকেও সংবেদনশীল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
তবে সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হল, এই প্রস্তাবিত অস্ত্র কারখানাটি তৈরি করতে পাকিস্তান এবং তুরস্ক অর্থনৈতিক ও কারিগারি সহায়তা দিতে পারে। জানা যাচ্ছে, দুই দেশের সামরিক কর্তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই জমিতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আর সেখানে দুই দেশ মিলিতভাবে শিল্প স্থাপন করে রফতানির পরিকল্পনা ছিল। এমনকি ওই প্রকল্পের পরিকাঠামো গড়ার দায়িত্ব নিয়েছিল ভারত সরকার।
আরও পড়ুন: DGP নিয়োগে নতুন জটিলতা! এবার ক্যাটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে UPSC
প্রসঙ্গত, এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। কারণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন দোরগোড়ায়। আর নির্ধারিত সুচি অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হলে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নেবে। অনেকের মতে, ভারতকে কৌশলগত চাপে রাখার লক্ষ্যেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।