মমতার অভিযোগ পেতেই ময়দানে পুলিশ, প্রতীক জৈনের বাড়ি নিয়ে গেল মোক্ষম প্রমাণ

Kolkata Police

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ‘চুক্তিবদ্ধ’ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন ও সংস্থাটির সল্টলেকের অফিসে ইডির হানায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি ইডিকে ব্যবহার করে ভোটের রণকৌশল, প্রার্থী তালিকা চুরি করছে বলে অভিযোগ তুলে সরব রাজ্যের শাসকদল। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতীক জৈনের বাড়ি সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। ইডির ঢোকার আগের মুহূর্ত থেকে শুরু করে তল্লাশি শেষ হওয়ার পর পর্যন্ত পুরো সময়সীমার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

CCTV ফুটেজ সংগ্রহ পুলিশের

রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর সেক্টর ফাইভের দফতরে ইডির অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রথম থেকেই দাবি করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল হরণ করা হয়েছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপনে চুরি করা হয়েছে। এমনকি আইপ্যাকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানান তিনি। এই নিয়ে মামলা মোকদ্দমাও হয়। এবার তাই মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে, CCTV ক্যামেরার ফুটেজ ও যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করল পুলিশ। এর পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার প্রতীক জৈনের বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী সহ এলাকার বাসিন্দাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগে তদন্তে নামল পুলিশ

বৃহস্পতিবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর সেক্টর ফাইভের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। দুপুর ১২টা নাগাদ ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালানোর সময়ই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখান থেকে বেশ কিছু ফাইল ও ল্যাপটপ নিজের গাড়িতে তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর প্রতীকের বাড়ি থেকে তিনি সরাসরি যান আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতরে। সেখান থেকেও কিছু নথি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে রাখা হয় বলে অভিযোগ। বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরোন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সময় ঘরের ভিতরে ঠিক কী হয়েছিল? কীভাবে নথি বাইরে বের করা হল? CCTV ফুটেজ দেখে সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: হিন্দমোটরে বন্ধ কারখানায় নাবালিকাকে ধর্ষণ, পুলিশের জালে হুগলীর তৃণমূল কর্মী

তদন্তের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ফাইল কেড়ে নিয়ে আসায় মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। একইভাবে অজ্ঞাতপরিচয় ED আধিকারিক ও CRPF-এর বিরুদ্ধে, শেক্সপিয়র সরণি থানা ও বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে। হাইকোর্টেও পাল্টা মামলা করা হয়েছে। যার ফলে মামলার তদন্ত বেশ জমে উঠেছে। এদিকে আইপ্যাকের দফতর ও প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির হানার সময় কীভাবে “বাধা” দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চেয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

Leave a Comment