প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে বিধানসভা নির্বাচন। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি ও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে। তাই ভোট প্রচারের প্রস্তুতিতে নেমেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। চতুর্থবার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মতিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল, তাইতো জনসংযোগ বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছেন তারা। এমতাবস্থায় নদীয়ার (Nadia) তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে উঠে এল বিস্ফোরক অভিযোগ। তোলা না পেয়ে, সেখানকার এক মহিলাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল।
ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, নদিয়ার আড়ংঘাটায় নির্যাতিত মহিলা একাই থাকেন বাড়িতে। আর সেই সুযোগে বিগত কয়েকদিন ধরেই তোলা দাবি করে চলেছেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। এদিকে তাঁদের এই অবৈধ দাবি মেনে না নেওয়ায় ওই মহিলার উপর ব্যাপক অত্যাচার শুরু করেন তাঁরা। অভিযোগ গত ২০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশ ওই মহিলাকে বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। চিৎকার করলেও কেউ তাঁকে বাঁচাতে আসেনি। শেষে প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। ওইদিনই ধানতলা থানায় অভিযোগ করেন নির্যাতিতা।
অস্বস্তিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব
নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। ধানতলা থানার পুলিশ জানিয়েছে, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তদের রেয়াত করা হবে না।” এদিকে নির্যাতন এবং শ্লীলতাহানির এই ঘটনায় তীব্র অস্বস্তি শুরু হয় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, “অভিযুক্তদের সঙ্গে দলের নাম জড়ালেও দল এই রকম ঘটনা কখনই সমর্থন করে না।” তাই ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকে বাধ্যতামূলক ই-২০ পেট্রোল! বাড়বে না তো তেলের দাম?
কিছুদিন আগেই মালদহের গাজল থানার রানিগঞ্জ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অলতোর গ্রামে এক পরিবারকে উচ্ছেদের হুমকি ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠে এসেছিল রানিগঞ্জ দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী লিটন বিশ্বাস সহ আরও দুজনের বিরুদ্ধে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা লিটন বিশ্বাস। কিন্তু গাজোল বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক চিন্ময়দেব বর্মণ অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল প্রধানের স্বামী তাঁর নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় মানুষদের ভয় দেখিয়ে জমি, বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করছেন। তবে এই রাজত্ব বেশিদিন চলবে না।