বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শেখ হাসিনার শাসন শেষ হতেই বাংলাদেশে শুরু হয় মহম্মদ ইউনূস জামানা। ওপার বাংলার সিংহাসন পেতেই ভারতের শত্রুদের ক্রমশ কাছে টেনেছেন তিনি। বিগত দিনগুলিতে বারবার ভারত বিরোধী স্লোগান উঠেছে বাংলাদেশে। ওপারে অবাধে যাতায়াত বেড়েছে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের। এদিকে শান্তিতে নোবেলজয়ী নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বারবার উত্তর-পূর্ব ভারতের চিকেন নেকের প্রসঙ্গ তুলেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের চোখ সেদিকেই। মূলত সেসব কারণেই বিগত দিনগুলিতে ধাপে ধাপে শিলিগুড়ি করিডোরে সেনা সংখা বাড়িয়েছে ভারত। এবার রেল ব্যবস্থাতেও বড় চাল দিল নয়া দিল্লি (India Chicken’s Neck Underground Rail)।
চিকেন নেকে ভারতের বিরাট প্ল্যান
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শত্রুদের গতিবিধিতে নজর রেখে চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর লাগোয়া অঞ্চলে বাংলার মাটির নিচে অন্তত 40 কিলোমিটার স্ট্যাটেজিক রেল করিডোর গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল মন্ত্রক। এরই মধ্যেই সে কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। জানা যাচ্ছে, চিকেন নেকে 40 কিলোমিটার অংশজুড়ে যে স্ট্রাটেজিক আন্ডারগ্রাউন্ড রেললাইন তৈরি হচ্ছে সেটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগকে নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারিতে ৩২, মার্চে আরও বেশি! দক্ষিণবঙ্গে গরম নিয়ে ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের
আসলে সাম্প্রতিক সময়ে বারবার চিকেন নেকের প্রসঙ্গ শোনা গিয়েছিল ওপার বাংলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের গলায়। বেশ কয়েকটি সূত্রের খবর, পাকিস্তানের সাথেও চিকেন নেক নিয়ে বিগত দিনগুলিতে নানান পরিকল্পনা করেছেন তিনি। মূলত সে কারণেই শিলিগুড়িতে চিকেন নেক অঞ্চলে সেনা মোতায়েন বাড়ানোর পর এবার মাটির তলা থেকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে কেন্দ্র। এর একমাত্র উদ্দেশ্য, চিন বা বাংলাদেশের মতো কোনও পক্ষ যদি ভারতে হামলা চালায় সে ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি রেল পথ ধরে সেনাবাহিনীর কাছে যুদ্ধের রসদ পৌঁছে দেওয়া যাবে। এক কথায়, মাটির উপরের রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাটির তলদেশ দিয়ে সকলের নজর এড়িয়ে যুদ্ধের অস্ত্র, সরঞ্জাম সহ প্রয়োজনীয় সমস্ত রসদ পৌঁছে দেওয়া যাবে সেনাবাহিনীর হাতে।
অবশ্যই পড়ুন: ভিন দেশের হয়ে T20 বিশ্বকাপে টিম ইন্ডিয়ায় খেলার স্বপ্ন দেখা ৪০ ক্রিকেটার
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সাথে যুক্ত করতে যে 40 কিলোমিটারের স্ট্যাটেজিক করিডোর তৈরি করা হবে তাতে থাকবে মূলত 6টি লাইন। যার মধ্যে চারটি লাইন যাবে মাটির উপর থেকে এবং দুটি রেললাইন মাটির তলদেশে তৈরি করা হবে। এ প্রসঙ্গে নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব এবং চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার হিতেন্দ্র গোয়েল জানিয়েছেন, এই বিশেষ রেললাইনগুলি তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত চালু করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতীয় রেলের এই 6 লাইনের আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্প যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলেই মনে করছেন রেল আধিকারিকরা।