বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ব্যবসা মানে ওঠা পড়া লেগেই থাকবে। যে বিষয়টা কার্যত রক্তে প্রবেশ করে গিয়েছে এশিয়ার সবচেয়ে ধনীতম ব্যক্তি মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani)। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ বিগত দিনগুলিতে ব্যবসা থেকে বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও আর্থিক ক্ষতিও দেখতে হয়েছে বহুবার। সেই ক্ষতি যেন পিছু ছাড়ছে না আম্বানির। রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারগুলি আজ অর্থাৎ বুধবার কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ট্রেডিং সেশন চলাকালীন কোম্পানিটির শেয়ারগুলির দাম 1.50 শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, চলতি জানুয়ারি মাসে সংস্থার শেয়ারগুলির দাম 12 শতাংশেরও বেশি কমেছে। আর তাতেই বড় ক্ষতির মুখে মুকেশ আম্বানি।
5 বছরে বিরাট পতন
মুকেশ আম্বানির সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারগুলি বুধবার ট্রেডিং সেশন চলাকালীন 1.50 শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমুখী হয়েছে। আম্বানি সংস্থার শেয়ারের এই পতন বিগত 5 বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অর্থাৎ গত 5 বছরের মধ্যে রিলায়েন্সের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে এ মাসেই। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, খুচরো ব্যবসায় মন্দা এবং রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমে যাওয়ার কারণে অপারেটিং এবং লেনদেনের মার্জিনের উপর বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় শেয়ারগুলির দাম 5 বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার ঘোষিত তৃতীয় প্রান্তিকের ফলাফল থেকে শেয়ারের দামে কোনও উন্নতি হয়নি। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিফটি ব্লু চিপ স্টকের 14 দিনের আপেক্ষিক শক্তি সূচক মঙ্গলবার এক ধাক্কায় 24 এ নেমে আসে। ওই প্রতিবেদন বলছে, গত 5 বছরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিসের শেয়ারের অবস্থা এতটা খারাপ হয়নি।
অবশ্যই পড়ুন: আগামী ২৪ ঘন্টায় কি শীত বাড়বে? নাকি গা ঘামাবে গরম? জানুন অবহাওয়ার লেটেস্ট আপডেট
ঠিক কতটা ক্ষতি হলো মুকেশ আম্বানির?
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত 31 ডিসেম্বর থেকে চলতি জানুয়ারির 21 তারিখ পর্যন্ত তিন সপ্তাহের মধ্যে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম 12.50 শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। এর আগে গতকাল এই শেয়ারের দাম 1373 টাকা পর্যন্ত নেমে গেলেও আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই শেয়ারের দাম রয়েছে 1407.50 টাকা। যেখানে গত ডিসেম্বরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দাম ছিল 1569.40 টাকা। এর অর্থ গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির 21 তারিখ পর্যন্ত রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পতনের কারণে মাত্র তিন সপ্তাহে মুকেশ আম্বানি 2.66 লাখ কোটি টাকা অর্থাৎ 29 বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন।