প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চলছে পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬-এর মাধ্যমিক পরীক্ষা। তাই জোর কদমে রিভিশন পর্ব চলছে। এমতাবস্থায় এখনও মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড হাতে পায়নি ভবানীপুরের একটি নামী স্কুলের ছাত্র। আর এর জন্য সম্পূর্ণ দায়ী স্কুল। এবার সেই বিষয়ে প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভপ্রকাশ করলেন হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এবং শাস্তিস্বরূপ স্কুল কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়া যাতে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে পারে, তার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে ৷
স্কুলের গাফিলতিতে মেলেনি অ্যাডমিট কার্ড
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, ভবানীপুরের একটি নামী স্কুলে অয়ন দাস নামের দু’জন ছাত্র রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ছাত্র মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এদিকে তার নাম মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে স্কুল৷ পর্ষদও সেই হিসেবে ওই ফেল করা পড়ুয়ার নামে অ্যাডমিট কার্ড পাঠিয়ে দেয়৷ এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অয়ন দাসের নাম পর্ষদের কাছে নথিভুক্ত করার জন্য পাঠায়নি৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই অ্যাডমিট কার্ড হাতে পায়নি ওই যোগ্য অয়ন। এই অবস্থায় আদালতের কাছে দ্বারস্থ হন উত্তীর্ণ ছাত্রের অভিভাবক। অভিযোগ তোলেন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের জল গড়ায় হাইকোর্টে
জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড না মেলার মামলাটি ওঠে। সেই মামলার সম্পূর্ণ ঘটনা জানার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি। স্কুলের তরফে আইনজীবী স্কুলের এই গাফিলতির কথা স্বীকার করে নেন৷ তিনি জানান, যে মুহূর্তে স্কুল এই ভুল বুঝতে পেরেছে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের প্রতিনিধি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের কাছে ভুল সংশোধনের জন্য যোগাযোগ করেন৷ কিন্তু মধ্যশিক্ষা পর্ষদ শেষ মুহূর্তে তাদের অনলাইন পোর্টালে এই ভুল সংশোধন করতে রাজি হয়নি। পাল্টা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষে আইনজীবী জানান, শেষ মুহূর্তে এখন তাদের কিছুই করার নেই৷ স্কুলের সঠিক সময়ে ভুল সংশোধন করা উচিত ছিল।
আরও পড়ুন: কুলপিতে তৃণমূল বুথ সভাপতির গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ
বিচারপতি অমৃতা সিনহা সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর অয়ন দাসকে শুক্রবার সন্ধের মধ্যে এনরোলমেন্ট চেয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেন। এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার আগে যাতে ওই আবেদনকারী ছাত্র অ্যাডমিট কার্ড পায় তার জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দেন বিচারপতি। অন্যদিকে এই ভয়ংকর ভুল করার জন্য স্কুলকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। এবং স্কুলের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।