প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৫ এর নভেম্বর থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে SIR প্রক্রিয়া। এখনও পুরোদমে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের কাজ। এমতাবস্থায় রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক। আর এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যেই বড় ফ্যাসাতে ফেঁসেছে BLO দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা (BLO Teachers)। এবার তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন পত্র পাঠাল রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর।
মাধ্যমিক এবং SIR নিয়ে বেশ চাপে শিক্ষকরা
উল্লেখ্য, চলতি বছর আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে হতে চলেছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে রাজ্যের সবকটি স্কুলে প্রায় পরীক্ষার সিট পড়বে। ফলে গার্ডের জন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের স্কুলে যেতেই হবে। তবে সেখানেই হচ্ছে সমস্যা। রাজ্যে এইমুহুর্তে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে, আর সেই কাজে রাজ্যের সব স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাই নিযুক্ত রয়েছেন বুথ লেভেল অফিসার বা BLO হিসেবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। তাই এইমুহুর্তে কাজের চাপ প্রচুর। এমতাবস্থায় মাধ্যমিক পরীক্ষা পড়ে যাওয়ায় দ্বিগুণ চাপে পড়েছে তাঁরা। তাই পরীক্ষার সময়ে সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে আবেদন করা হলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে।
কমিশনের কাছে সাময়িক অব্যাহতির আবেদন
রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পাঠানো আবেদনে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় অর্থাৎ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূলত যাঁরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, তাঁদের যেন সাময়িক ভাবে SIR-এর কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আসলে রাজ্যে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের কাজ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, অন্য দিকে মাধ্যমিক পরীক্ষাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে মাধ্যমিক হওয়ায়, স্কুলগুলিকে যাতে সমস্যায় না পড়তে হয় তার জন্যই এই আবেদন।
আরও পড়ুন: পুলিশের দ্বারস্থ রিঙ্কু মজুমদার, হঠাৎ কী হল দিলীপ ঘোষের স্ত্রীর?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে ৮০ হাজার ৬৮১ জন BLO রাজ্যে SIR এর কাজ করছে। সেক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা শতাংশের হিসেবে খুবই কম। আবার বেশির ভাগ BLO প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই সাময়িক অব্যাহতিতে খুব একটা সমস্যা হবে না বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে এখনও এই নিয়ে কোনো কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন। তাই এখন সকলে কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে।