বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: তিনি আদি, তিনিই অন্ত.. গোটা ভূ-ভারতে দেবতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শিখরে মহাদেব। এবার তাঁর নাম স্মরণ করেই শিলিগুড়ির মাটিগাড়া লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় মহাকাল মন্দিরের (Siliguri Mahakal Temple) শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার, মন্দিরের শিলান্যাস পর্ব মিটতেই মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে শেষ হবে মন্দির তৈরির কাজ। আর তারপরই শিব ভক্তদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে থাকবে শিলিগুড়ির ‘মহাকাল মহাতীর্থ।’
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহাকাল মন্দির হবে “মহাকাল মহাতীর্থ’
আজ শিলিগুড়ির মাটিতে দাঁড়িয়ে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করা মাত্রই মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানিয়ে দিলেন, এই মন্দিরই হবে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মহাকাল মন্দির। দীঘায় জগন্নাথ ধাম, নিউটাউনের বুকে দুর্গঙ্গনের পর বিশ্বের অন্যতম বিশালাকায় মন্দির তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েই মন্দিরটির নাম ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়ির মন্দিরের নাম রাখা হল ‘মহাকাল মহাতীর্থ।’ মুখ্যমন্ত্রীর আশা, এই মন্দির শিলিগুড়ির পর্যটন মানচিত্রকে নতুন মাত্রা দেবে। সেই সাথেই শিব ভক্তদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠবে মহাকাল মহাতীর্থ মন্দির।
মহাকাল মহাতীর্থর খুঁটিনাটি
জানা যাচ্ছে, কম করে 17.41 একর জমি নিয়ে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া লক্ষী টাউনশিপ এলাকায় তৈরি হবে মহাকালের বিশেষ মন্দির। যা তৈরি করবে ট্রাস্ট। এদিন মন্দিরের শিলান্যাস করার আগেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন উত্তরবঙ্গের এই মন্দিরে কী কী থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, এই মন্দিরে প্রতিদিন কম করে 1 লাখ দর্শনার্থী মহাকালের দর্শন করতে আসতে পারবেন। সেই সাথে মন্দিরটির উচ্চতা হবে 216 ফুট। মন্দির কমপ্লেক্সে মূল মন্দিরের পাশাপাশি থাকবে শিব ভক্তদের দর্শনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মহাকাল মূর্তি।
জানা গেল, মহাতীর্থ মন্দিরে মহাকালের যে মূল মূর্তিটি বসানো হবে তার উচ্চতা হবে 108 ফুট এবং এটি সম্পূর্ণ ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি করা হবে। শুধু তাই নয়, এই মূর্তি যেখানে বসানো হবে সেই ভিত্তির উচ্চতাও হবে 108 ফুট। মন্দিরের সাথে সাথেই মূল কমপ্লেক্স এর মধ্যে থাকবে মহাকাল মিউজিয়াম এবং সাংস্কৃতিক হল। এছাড়াও মন্দিরের পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে থাকবে দুটি নন্দীগৃহ। সেখানে গিয়ে নন্দী মহারাজকে দর্শন করতে পারবেন ভক্তরা। গোটা ভারতের 12টি জ্যোতির্লিঙ্গের প্রতিরূপ বসানো হবে মন্দিরের ভেতরেই। পাশাপাশি দুটি প্রদক্ষিণ পথ দিয়ে একসাথে প্রায় 10 হাজার ভক্ত চলাফেরা করতে পারবেন।
মন্দিরের সীমানা বরাবর থাকবে 12টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির। আর কী কী থাকবে? মন্দিরের চার কোণে চার দেবতা অর্থাৎ দক্ষিণ-পশ্চিমে গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্বে শক্তি দেব এবং দক্ষিণ পূর্ব দিকে বিষ্ণু-নারায়ণ বিরাজ করবেন। মন্দিরে থাকবে দুটি সভামণ্ডপও। যেখানে প্রতিদিন কম করে 6 হাজার মানুষ বসে থাকতে পারবেন। থাকবে রুদ্রাক্ষ এবং অমৃত কুন্ড। এই দুই জলাধার থেকে ভক্তরা নিজেদের ইচ্ছেমতো পবিত্র জল বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন। এখানেই শেষ হচ্ছে না তালিকা। মন্দির চত্বরজুড়ে থাকবে পুরোহিতদের থাকার ব্যবস্থা। পাশাপাশি গোটা মন্দির চত্বর জুড়ে ক্যাফেটেরিয়া, ওষুধের দোকান, ডালা কমপ্লেক্স, প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র এমনকি স্যুভেনিয়ার থাকবে। মন্দিরের ভেতরেই ভক্তদের সামনে তুলে ধরা হবে মহাকালের নানান কাহিনী এবং মহিমা।
অবশ্যই পড়ুন: ৩ মাসে টাকা ডবল, একটি কিনলে একটি স্টক একদম ফ্রি!
প্রসঙ্গত, এদিন মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করার পরই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, দীঘার জগন্নাথ ধাম, নিউটাউনের দুর্গাঙ্গন এবং শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দির গোটা বিশ্বের ভক্ত এবং দর্শকদের আকর্ষিত করবে। তাঁদের কাছে পছন্দের ধর্মীয় স্থান হয়ে উঠতে বাধ্য এই জায়গাগুলি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, তিনি পঞ্জিকা দেখেই শুভদিন ঠিক করে রেখেছিলেন। সেই মতোই হল শিলান্যাস। নিজের বক্তব্য রাখতে রাখতেই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী বলে দেন, “পশ্চিমবঙ্গকে এক নম্বর করব বলেছিলাম। করেই ছাড়ব।”