সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে একেবারে দেউলিয়া হওয়ার পথে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান (Pakistan Fuel Crisis)। একদিকে ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতের (Iran-Israel War) কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটকে রয়েছে, অন্যদিকে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতি জ্বালানির অভাবে সম্পূর্ণরূপে ধুকছে। আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দেশের সরকার হাই অক্টেন তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রতি লিটারে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এক কথায় মধ্যবিত্তদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে সন্ত্রাসের দেশে।
জ্বালানির বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত তেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার সরাসরি ৩০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২০০ টাকা দাম বেড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ২০০%। অন্যদিকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অনেকটাই ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। এর আগেই সাধারণ পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫৫ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩২১.১৭ টাকা প্রতি লিটার। আর ডিজেলের ৩৩৫.৮৬ টাকা প্রতি লিটার।
এদিকে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম সচিবের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, দেশের জ্বালানি ভান্ডার এখন সম্পূর্ণ তলানিতে। যদি নতুন করে সরবরাহ না আসে, তাহলে পাকিস্তান বড়জোর আর হাতেগোনা কয়েকটা দিন চালাতে পারে। জানা যাচ্ছে, যে পরিমাণ এলপিজি মজুদ রয়েছে তা মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই শেষ হবে। আর মজুদ অপরিশোধিত তেল আগামী ৭ দিন পর্যন্ত চলবে এবং জেট ফুয়েল অর্থাৎ বিমানের জ্বালানি ১০ দিনের জন্য মজুদ রয়েছে। আর পেট্রোল মজুদ রয়েছে ২০ থেকে ২২ দিনের মতো এবং ডিজেল মজুদ রয়েছে আনুমানিক ১৭ দিনের মতো। সেই কারণে জ্বালানি ফুরিয়ে আসার জেরে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ব্ল্যাকআউটের আতঙ্কও দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় রুপিতে ভারী পতন, সোমবার ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড গড়ল টাকা
আকাশছোঁয়া বিমানের ভাড়া
অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ার কারণে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবার উপরেও। গত ১০ মার্চ থেকে পাকিস্তানের ভিতরে ফ্লাইটের টিকিটের দাম ২৮০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর আন্তর্জাতিক রুট বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে যাওয়ার খরচ এবার ১০ হাজার টাকা থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় করতে পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। অধিকাংশ সরকার এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আর ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়িতে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্কুল, কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ঈদের ছুটির বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে রাস্তায় গাড়ি চলাচল কমিয়ে তেলের খরচ বাঁচানো যায়। এমনকি সম্প্রতি শুরু হতে চলা পাকিস্তান সুপার লিগে দর্শক ছাড়াই খেলা চলবে আর স্টেডিয়াম সংখ্যা কমানো হয়েছে।