প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা প্রসঙ্গে একের পর এক জট তৈরি হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টে মামলার জল গড়ালেও এখনও DA বা মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে কোনরকম প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না রাজ্য সরকার। যার জেরে বিপাকে পড়েছে কর্মীরা। এই অবস্থায় শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের (Sishu Siksha Kendra) শিক্ষিকাদের অবস্থা আরও বেহাল। অভিযোগ, বিগত চার মাস ধরে নাকি ভাতা আটকে পুরসভার শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষিকাদের।
ভাতা আটকে শিক্ষাকর্মীদের
রিপোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশু শিক্ষা কেন্দ্রগুলি পুরসভা ও পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণাধীন। আর এই দুটি শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়কদের বেতনও অতি সামান্য। অভিযোগ বেতন সামান্য হওয়ার পাশাপাশি সেই ভাতাও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না শিক্ষাকর্মীদের। প্রত্যেক বছর সামান্য ৩ শতাংশ করে বেতন বাড়ে এসএসকে ও এমএসকে শিক্ষকদের। অবসরকালীন টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও, তা মেলে না পুরসভার শিক্ষকদের। একই অবস্থা পঞ্চায়েতের শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে। আর এই ঘটনার নেপথ্যে জানা যাচ্ছে রাজ্য বনাম কেন্দ্রের সংঘাত।
নেপথ্যে রাজ্য কেন্দ্রের সংঘাত
রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সর্বশিক্ষা মিশনের শিক্ষাকর্মীদের অবস্থা অত্যন্ত বেহাল। অভিযোগ, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সংঘাতের কারণে বিপুল টাকা আটকে যাচ্ছে। এদিকে রাজ্যের দাবি, কেন্দ্র সমগ্র শিক্ষা মিশনের একটা বড় অঙ্কের টাকা আটকে রাখায় সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাল্টা অভিযোগ তোলে কেন্দ্র সরকারও। তাঁরা রাজ্যের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টানছে। যার ফলে মাশুল গুনতে হচ্ছে শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের কর্মী ও সহায়কদের। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই প্রসঙ্গে বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে। এই যে সর্ব শিক্ষার কর্মীরা, তাদের বেতন বাড়ানোর কথা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, কিন্তু যতক্ষণ কেন্দ্রীয় সরকার ওদের নায্য টাকা ছাড়ছে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা টাকা বাড়াতে পারছিনা।”
আরও পড়ুন: মমতার উত্তরবঙ্গ সফরের মাঝেই তৃণমূলে ভাঙন, বিজেপিতে যোগ ১৫০ পরিবারের
উত্তর দমদম শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের এক কর্মী জানিয়েছেন, “বেতনটা অনেকই কম, মাত্র ১০ হাজার টাকা। যদি বেতন একটু বেশি হত, তাহলে খুব সুবিধা হত। কারণ হাইস্কুলের মতোই পঠন-পাঠন হয়, কিন্তু বেতন অনেক কম। এদিকে চার মাস ধরে ভাতা আটকে, পেনশনের টাকা পাওয়ার কথা, সেটাও পাই না। তাই আমরা এটা নিয়ে আন্দোলন করছি। অনেকেই আগে রিটায়ার করেছেন, কিন্তু তারা খালি হাতেই অবসর নিয়েছেন। ভাতা না পেয়ে আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর অবস্থা।” এছাড়াও শিক্ষাকর্মীদের তরফে অভিযোগ উঠেছে যে কেন্দ্রে সরকারের বিনামূল্যের জামা-জুতোও পৌঁছয় না। আর তাই নিয়ে বেশ উদ্বেগে পড়েছে অভিভাবকরাও।