যানজট এড়িয়ে ১৫ মিনিটেই সমতল থেকে পাহাড়, কার্শিয়াংয়ে কবে থেকে শুরু হবে রোপওয়ে?

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পর্যটকদের জন্য রইল দারুণ সুখবর। আপনিও কি সম্প্রতি পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন? তাহলে জানিয়ে রাখি, এবার আপনি মাত্র ১৫ মিনিটে সমতল থেকে পাহাড়ে এবং পাহাড় থেকে সমতলে ওঠানামা করতে পারবেন। আর এর জন্য দীর্ঘ বহু বছর পর চালু হবে কার্শিয়াংয়ে রোপওয়ে (Kurseong Ropeway) পরিষেবা। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। এই রোপওয়ে পরিষেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটকরা দারুণভাবে লাভবান হবেন।

এবার সমতল থেকে পাহাড়ে পৌঁছান মাত্র ১৫ মিনিটে

জানা গিয়েছে, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিলিগুড়ির রোহিণী লেক থেকে কার্শিয়াংয়ের গিদ্দা পাহাড় পর্যন্ত যাত্রীবাহী রোপওয়ে পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। ২০১৪ সালে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোপওয়ে তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা। কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এরপর ২০২৩ সালে বরাতপ্রাপ্ত কলকাতার সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে এখন পাহাড়ের গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নতুন করে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে টেন্ডার ডেকেছে। সংস্থার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মা জানিয়েছেন, নতুন কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এ বার আর বাধা আসবে না।

এই প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, “২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোপওয়ে শিলিগুড়ি এবং কার্শিয়াংয়ের পর্যটক এবং বাসিন্দাদের জন্য উপকারী হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাহাড়ি রাস্তা ধরে যানবাহনের তুলনায় রোপওয়েটি ভ্রমণের সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। রোপওয়েতে ভ্রমণে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগবে এবং যানবাহন চলাচলে ৪০-৪৫ মিনিট সময় লাগবে।”

আরও পড়ুনঃ ‘এই দিনের মধ্যে DA দিতেই হবে পশ্চিবঙ্গ সরকারকে’

কী কী রয়েছে গিদ্দা পাহাড়ে?

এই মনোকেবল কন্টিনিউয়াস রোটেটিং গন্ডোলাতে ২২টি কেবিন থাকবে এবং প্রতি ঘন্টায় ৫০০ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। এটি একটি দূষণমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থাও প্রদান করবে। মোট প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা বলে খবর। কার্শিয়ং বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গিদ্দা পাহাড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং উপত্যকার বেশ মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ মার্চেই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গে? ৪ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ, শিলাবৃষ্টি! আজকের আবহাওয়া

গিদ্দাপাহাড়ে অবস্থিত নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু জাদুঘরটি একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এটি মূলত ১৯২২ সালে লেখক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী শরৎ চন্দ্র বসুর কেনা একটি ব্যক্তিগত বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে, শরৎচন্দ্র এবং পরবর্তীকালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে ব্রিটিশরা এখানে গৃহবন্দী করে রেখেছিল বলে খবর। গিদ্দা পাহাড় সেতি মাতা মন্দির – দেবী দুর্গার হিন্দু মন্দির – পর্যটকদের জন্য আরেকটি প্রধান আকর্ষণ।

Leave a Comment