সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে ভয়ঙ্কর সংকটের (Iran Conflict) ছবি সামনে আসলো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই দমন অভিযানে ইরানে অন্তত ১২,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের আধুনিক ইতিহাসের সবথেকে বড় গণহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। আর সবথেকে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ৮ এবং ৯ জনুয়ারি, যখন ইন্টারনেট বন্ধ রেখে দেশ জুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়।
ভয়ংকর রিপোর্ট ইরানের
ইরান ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট জানাচ্ছে, তারা ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, রাষ্ট্রপতি দফতর, ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পসের একাধিক সদস্য চিকিৎসক, নার্স এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে। আর বহু যাচাই করার পর এই মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, নিহতদের বেশিরভাগের বয়স ৩০ বছরের বেশি। আর অধিকাংশকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি অভিযানে সরাসরি অংশ নেয় IRGC বাহিনী। আর এটি কোনও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ নয়, বরং পরিকল্পিতভাবেই খুন বলে দাবি করা হচ্ছে।
সবথেকে চাঞ্চল্যকর দাবি, এই অভিযান চালানো হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামিনির সরাসরি নির্দেশে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের তিনটি শাখার শীর্ষ নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতেন এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ কাউন্সিল থেকেই লাইভ ফাইয়ারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
CBSNews এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের একাধিক মর্মান্তিক ভিডিও। আর সেখানে দেখা যাচ্ছে, মরচুয়ারিতে সারিবদ্ধভাবে রাখা মৃতদেহ। এমনকি কান্নায় ভেঙে পড়ছে পরিবার। আর নিখোঁজদের খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে মানুষ। তবে ইন্টারনেট বন্ধ, সংবাদমাধ্যমের উপর করাকরি আর সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর কারণে প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে এখনও বেশ কিছু সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছে মানবাধিকার সংগঠন। এদিকে এই ঘটনার পর ইরানের শতাধিক সংবাদপত্র এবং সংবাদমাধ্যম বন্ধ হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা ছাড়া কেউই স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশ করতে পারছে না। পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও তথ্য বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: অনটন আর একাকীত্বের সাথে লড়াইয়ে হার, প্রয়াত অমল অসুর
এদিকে ইরান ইন্টারন্যাশনাল নিহতদের পরিবার এবং সাধারণ মানুষের কাছে ছবি, ভিডিও, নথি, চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান পাঠানোর আবেদনও জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই হত্যাকাণ্ডকে কোনওভাবেই নীরবতায় ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। এখন দেখার দেশটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।